সালাউদ্দিন আহমদ © সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা কিছু অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে আনা হবে, কিছু সংশোধন আকারে আবার কিছু বাতিল হবে।
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত বিশেষ কমিটির মুলতবি বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ বিশেষ কমিটির বৈঠকটি আজ দুপুর ২টায় শুরু হয়।
এদিকে ওই বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সব সদস্য ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এরইমধ্যে ১২০টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’ এবং দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির সবাই একমত হয়েছেন। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনা করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশ বিল আকারে উত্থাপনের জন্য একমত হয়েছে এ নিয়ে যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটি। বিশটি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জুলাই সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশে একমত সবাই। তবে, দুদক, বিচার বিভাগ, গণভোট ও পুলিশ সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল করতে চায় বিএনপি-জামায়াতের এমন বক্তব্যকে অসত্য বলছে বিএনপি। জামায়াত বলছে, জুলাই বিরোধী কোনোকিছু মেনে নেবে না তারা।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টায় প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এ বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কোনগুলো স্থায়ী আইন হিসেবে বহাল থাকবে এবং কোনটি বাতিল হবে, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়াই এই কমিটির মূল দায়িত্ব।
গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এসব অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।