সরকারের যেসব ‘সাফল্য’ স্মরণ করিয়ে দিলেন বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১১ AM
সরকারের ‘সাফল্য’ স্মরণ করিয়ে দিলেন বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

সরকারের ‘সাফল্য’ স্মরণ করিয়ে দিলেন বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব © সংগৃহীত

এই সরকারের কিছু সাফল্য আছে, যেগুলো অস্বীকার করলে আমরা নিজের সঙ্গেই অন্যায় করব বলে মন্তব্য করেছেন অন্তবর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। পোস্টটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কিছু সাফল্য তুলে ধরেন এই বিশেষ সহকারী।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদায় নেবে। ইতিহাসের পাতায় সরকারটি থাকবে- কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জ, কিছু সীমাবদ্ধতা আর ব্যর্থতার হিসাব নিয়ে। সে হিসাব এড়ানো যাবে না। মানুষের অনেক দুঃখ আছে, স্বল্প সময়ে হিমালয় সম প্রত্যাশার বিপরীতে না প্রাপ্তির গভীরতর বেদনা আছে। অতীতের শত জুলুমের সব হিসাব মিটেনি-অবশ্যই বলা যায় নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের নতুন সরকার এসব নিয়ে কাজ করবেন। তথাপি, ন্যায়ের খাতিরে এটাও বলতে হয়- এই সরকারের কিছু সাফল্য আছে, যেগুলো অস্বীকার করলে আমরা নিজের সঙ্গেই অন্যায় করব।

যারা এই সরকারকে ন্যূনতম নম্বর দিতে চান, তারাও অন্তত কিছু বিষয়ের জন্য ধন্যবাদ প্রকাশে কার্পণ্য করবেন না উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ১৭ বছর পর বাংলার মানুষের ভোটাধিকার ফেরত এসেছে। ভোট আবার দেশের মানুষের হাতে পৌঁছে গেছে— এটা সামান্য অর্জন নয়। জালিম হাসিনার বিচার নিশ্চিত হয়েছে। ক্ষমতার ঊর্ধ্বে কেউ নয়— এই বার্তাটা রাষ্ট্র আবার উচ্চারণ করতে পেরেছে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। দেশের বাইরে থাকা কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর রাষ্ট্র প্রথমবারের মতো মর্যাদা পেয়েছে। বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ হয়েছে। স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এক ধাপ এগিয়েছে। যে যাই বলুন না কেন, জুলাই সনদের মানদণ্ডগুলো আগামীর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে— ক্ষমতার ভারসাম্য, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে এগুলো অপ্রাসঙ্গিক হবে না। বাংলাদেশের মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা ফিরে এসেছে।

এই সময়ে ১৫০টির বেশি গুরুতর আন্দোলন হয়েছে উল্লেখ করেছেন ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব। তিনি লিখেছেন, তবু ইন্টারনেট বন্ধ হয়নি, সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট ব্লক করা হয়নি। এটা এই ভূখণ্ডে নতুন অভিজ্ঞতা। সংশোধনী ও নতুন আইন মিলিয়ে ১২০টির বেশি আইন পাস হয়েছে। দেশ পেয়েছে প্রথম ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন— একটি ভবিষ্যৎ বিবেচনায় মৌলিক রাষ্ট্রীয় ভিত্তি। সাইবার আইন মানবিক হয়েছে, নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাদ গেছে। সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে আইন সংশোধন হয়েছে। নদী, বন, ভূমি, প্রাণ ও পরিবেশ রক্ষায় আইন হয়েছে। তামাক আইন পরিবর্তন হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের চেষ্টা হয়েছে। এসবই দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও লিখেছেন, পরবর্তী সরকার আইন বদলাতে পারে— এই ভয়ে সরকার বসে থাকেনি। বরং নিজেদের সৎ অভিপ্রায় প্রমাণ করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। পরবর্তী সরকার আইন বদলাতে গেলে প্রতিটি ক্ষেত্রেই আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা, অংশীজনের মতামত খণ্ডানো, ক্যাবিনেট স্ক্রুটিনি এবং লেজিস্লেটিভ ভেটিং এর পর্যায় গুলো স্তরে স্তরে পালন করতে হবে— যদি আইন প্রণয়ন/সংশোধন সঠিক প্রসেসে করা হয়। মানুষকে স্বস্তি দিতে দ্রব্যমূল্য অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। ৩৬ মাস ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা হয়েছে প্রায় ৭ শতাংশের কাছাকাছি। (খাদ্য মূল্যস্ফীতি (নভেম্বর ২০২৫): ৭.৩৬%, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি (নভেম্বর ২০২৫): ৭.৬২%)। ম্যাক্রো ইকোনোমিক স্ট্যাবিলিটি এসেছে বাংলাদেশে।

একটা জড় আমলাতন্ত্র সংস্কারে এই সরকারের বড়ো ব্যর্থতা আছে— এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, তবুও বলি, ইতিহাসে এই সরকারকে কেউ দুর্বল সরকারের তকমা দিলে সেটাও পুরো সত্য হবে না। ড. ইউনূস না থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক যুদ্ধে ভারতের চেয়েও ভালো করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব হত না, ইনসেনটিভভোগী হঠকারী ব্যবসায়ীরা রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ যুদ্ধে দেশকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিত।

‘তবে মনে রাখবেন’, ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব লিখেছেন, এই তথাকথিত দুর্বল সরকারের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য হচ্ছে- বাংলাদেশকে ড. ইউনূস-বিরোধী বৈশ্বিক আধিপত্যের চাপ থেকে রক্ষা করা। ৫ আগস্টের পর দেশের বিরুদ্ধে যে মাত্রায় মিস ইনফরমেশন ও প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়া তা সামাল দেওয়া কারো পক্ষেই সম্ভব ছিল না। ইনফো-ওয়ারে ড. ইউনূসের ছায়া আমাদের শত্রুদের তাড়া করেছে। বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করেছে— ইউনেস্কোর গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে সভাপতির পদ অর্জন করেছে।

তিনি আরও লিখেছেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আপনারা আমাদের কৃতকর্মের বিচার করবেন—এটাই স্বাভাবিক। ইতিহাস নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করবে। তবে একটা কথা মনে রাখবেন— ড. ইউনূস চেষ্টার ত্রুটি করেননি। রাতদিন তিনি বাংলাদেশের জন্য খেটেছেন। দেশে ও বিদেশে নিরন্তর বন্ধুত্ব গড়েছেন। আজ সাময়িক বিবেচনায় যে যাই বলুন— রাজনৈতিক সমালোচনার অতি দীর্ঘ দৌড়ে রাজনৈতিক ভাষ্যকারগণ ড. ইউনূসকে মনে রাখবে এই বলে যে, এক কঠিন ক্রান্তিকালে তিনি দেশটাকে বাঁচিয়েছিলেন। বাংলাদেশের গতিমুখ বদলে দিয়েছিলেন।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে সরোয়ার তুষারের পক্ষে মিছিলে অংশ নি…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের ওপর হামলার প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে বিক্ষ…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সরকারের যেসব ‘সাফল্য’ স্মরণ করিয়ে দিলেন বিশেষ সহকারী ফয়েজ …
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে পুলিশি হামলার মুখে জুলাই শহীদ ওম…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চ কর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে কুবিতে ব…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্ষুদ্র জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে যেভাবে আগ্রাসী হয়েছেন, নির্বাচ…
  • ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬