সরকারি চাকরিজীবীদের বর্তমানে চিকিৎসা ভাতা যথেষ্ট নয়, তাই চিকিৎসা ভাতা সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার এবং নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য সব সরকারি হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কার্ডের ব্যবস্থা করতে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতি। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বেতন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল এ প্রস্তাবনা জমা দেয়। এতে বর্তমানে নববর্ষ ভাতা যথেষ্ট না নববর্ষ ভাতা সর্বনিম্ন ৫০ শতাংশ করারও দাবি জানানো হয়।
সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে টিফিন ভাতা একেবারেই অপ্রতুল, তাই টিফিন ভাতা ৫ হাজার করতে হবে, যাতায়াত ভাতা সাড়ে ৩ হাজার করতে হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা থাকা উচিত।
উচ্চ ঝুঁকির চাকরির জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি ভাতা প্রদানের দাবি জানিয়ে বলা সমিতি বলেছে, জীবনযাত্রার বায়ের সাথে সমন্বয় করে প্রতি ৫ বছর অন্তর বেতন বৃদ্ধি করতে হবে এবং ১০০ শতাংশ পেনশন সুবিধা প্রদান করতে হবে।
সমিতির অন্য প্রস্তাবগুলো হলো-
* পেনশনারদের জন্য ৬৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য পাঁচ হাজার এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ১০ হাজার করতে হবে।
* জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বিবেচনা করে পেনশনার সবার জন্য প্রতিবছর নির্দিষ্ট হারে পেনশন বৃদ্ধি করতে হবে।
* বর্তমান অনুতোষিক হার ৩০০ করতে হবে।
* সততা, দক্ষতা, উদ্ভাবন, সেবার মান ও সময়ানুবর্তিতার ভিত্তিতে কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা নির্ধারণ করতে হবে।
* স্বল্প বেতন অবশ্যই দুর্নীতির কারণ, তাই ন্যূনতম যৌক্তিক বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
* সুশাসনের জন্য সততা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছ পদোন্নতি নীতি, অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি প্রদান, কর্মদক্ষতা, ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নৈতিক প্রশিক্ষণ, সম্পদ বিবরণী দাখিল ও ভিজিল্যান্স টিমের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
* পদোন্নতির ক্ষেত্রে অবশ্যই জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
* শ্রান্তি বিনোদন সুবিধা প্রতি দুই বছর অন্তর করতে হবে।
* রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
* নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য অধিককাল ভাতা প্রদান করতে হবে। সর্বোপরি বৈষম্যহীন, মানবিক ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।