পে কমিশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি
মূল বেতনের দ্বিগুন উৎসব ভাতা (বছরে ২টি) ও মূল বেতনের সমপরিমান নববর্ষ ভাতাসহ সর্বোচ্চ বাড়ি ভাড়া ৮০ শতাংশ চেয়ে জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ এ প্রস্তাবনা জানাতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারী সমিতি এবং কারিগরি কর্মচারী সমিতি।
৯ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বেতন ও পে স্কেল কমিটির কাছে এই প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে সংগঠন তিনটি। এছাড়াও প্রস্তাবনায় চিকিৎসা ভাতা প্রতি মাসে ৪ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে; যা বর্তমানে মাসিক ১৫০০ টাকা। শিক্ষা ভাতা সন্তান প্রতি ২ হাজার টাকা হারে দুই সন্তানের জন্য ৪০০০ টাকা; যা বর্তমানে সন্তান প্রতি ৫০০ টাকা দুই সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা রয়েছে। টিফিন ভাতা মাসিক ২০০০ টাকা; যা বর্তমানে মাসিক ২০০ টাকা। শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা প্রতি দুই বছরে ১ বার; যা বর্তমানে প্রতি তিন বছরে ১ বার রয়েছে। এর বাইরে ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা মাসিক ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
কার্যভার ভাতা হিসেবে চলতি দায়িত্ব বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রারম্ভিক মূল বেতনের মাসিক ২০% হারে নির্ধারণের প্রস্তাবনা দেয়া হয় প্রস্তাবনায়।
এর বাইরে যে সকল অফিসার্স, কর্মচারী ও কারিগররা সিটি কর্পোরেশন এলাকার যারা থাকেন তাদের জন্য; যাদের বেতন ৫৫০০০ পর্যন্ত তাদের মূল বেতনের ৮০% হারে; ৫৫০০১ হতে ৯৫০০১ পর্যন্ত যাদের, তাদের মূল বেতনের ৭৫% হারে; ৯৫০০১ হতে ১৪০০০০ পর্যন্ত মূল বেতনের ৭০% হারে এবং ১৪০০০১ হতে তদূর্ধ্বে তাদের জন্য মূল বেতনের ৬৫% হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবনায়।
বেতন পে স্কেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি কী জানতে বেতন পে স্কেল কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিছু প্রস্তাবনা জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ দেয়ার কথা আছে। সেজন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা কর্মচারী, অফিসার্সদের থেকে প্রস্তাবনা দিতে বলি। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। শীঘ্রই আমরা দাবিগুলো কমিশনের কাছে পাঠাব।
ঢাবি সংগঠনের প্রস্তাবনা মতে, বেতন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডে বেতন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১২তম গ্রেডে ৪০০০০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ২য় গ্রেডে ২ লাখ , ৩য় গ্রেডে ১ লাখ ৮৫ হাজার , ৪র্থ গ্রেডে ১ লাখ ৭০ হাজার, ৫ম গ্রেডে১ লাখ ৫৫ হাজার, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ১ লাখ ৪০ হাজার, ৭ম গ্রেডে ১ লাখ ২৫ হাজার, ৮ম গ্রেডে ১ লাখ ১০ হাজার, ৯ম গ্রেডে ৯৫ হাজার, ১০ম গ্রেডে ৭৫ হাজার, ১১তম গ্রেডে ৫৫ হাজার এবং ১২তম গ্রেডে ৪০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।
এছাড়াও প্রস্তাবিত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ২য় গ্রেড থেকে ৫ম গ্রেড বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ১৫% এবং ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম গ্রেড বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ১৭% ও ৯ম গ্রেড থেকে ১২তম গ্রেড বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ২০% করার দবি জানান তাঁরা।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন। প্রস্তাবে গত ১০ বছরের ব্যবধানে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে ৯০ থেকে ৯৭ শতাংশ। সোমবার (২০ অক্টোবর) এই খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে জাতীয় বেতন কমিশন।