৪৫তম বিসিএস গেজেট বঞ্চিত
ঢাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘৪৫তম বিসিএসে বৈষম্যের শিকার গেজেটবঞ্চিতরা’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি
৪৫তম বিসিএসে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও গেজেট থেকে বাদ পড়া ৫৪ জন প্রার্থীকে পুনরায় গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন গেজেট বঞ্চিতরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘৪৫তম বিসিএসে বৈষম্যের শিকার গেজেট বঞ্চিতরা’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা।
বক্তারা বলেন, বিসিএসের সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ৫৪ জন প্রার্থীকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট ও ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া এভাবে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া সাংবিধানিক ও ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে এক গেজেট বঞ্চিত প্রার্থী বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। এখানে আমরা যারা উপস্থিত হয়েছি, আমরা কেউ আবেদ ক্যাডার নই। কেউই প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে ক্যাডার হইনি। এখানে সবাই নিজ যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত গর্হিতভাবে আমাদের গেজেট থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই, সরকার আমাদের প্রতি সদয় হোক। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা দেশদ্রোহিতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়টি বিবেচনার বাইরে রেখে বাকি যোগ্য প্রার্থীদের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। সরকারের কাছে এটাই আমাদের আবেদন।
আরেক গেজেট বঞ্চিত প্রার্থী বলেন, ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে ১ হাজার ৭০২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ১০৫ জন গেজেট থেকে বাদ পড়েন। তাদের মধ্যে আটচল্লিশ জন মেডিকেল পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে জানা গেলেও সব ধাপ অতিক্রম করার পরও ৫৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হলো নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণ এবং ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করা। অথচ বিসিএসের সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করার পরও ৫৪ জন প্রার্থীকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ন্যায়সংগত কারণ জানতে চাই। আমরা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছি, আমাদের প্রায় সবাই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। আমিও ৪৪তম বিসিএসের মাধ্যমে কর্মরত। তাহলে ৪৫তম বিসিএসে আমাকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হলে প্রশ্ন আসে, আমি ৪৪তম বিসিএসে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলাম?
তিনি আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা শোষণ ও বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষণের কথা বলেছেন। আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই আমাদের গেজেট থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
নিজের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কলেজজীবন থেকে শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন, ২০১৩-১৪ সালের বিভিন্ন কর্মসূচি, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। এরপরও আমাদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার কারণ কী, তা সরকারের কাছে জানতে চাই। আমরা রাষ্ট্রের কাছে জানতে চাই, কিসের ভিত্তিতে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে? আমরা কি এই রাষ্ট্রের নাগরিক নই? এই রাষ্ট্রের সংবিধান কি আমাদের জন্য প্রযোজ্য নয়?
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই প্রার্থী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না এমন আশ্বাসের পরও আমাদের বাদ পড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা সরকারের কাছে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত এবং সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।