মেসি ও ভোজিনিয়া © সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের পর প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিশেষ এক উদ্যোগ নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে তিনি ভোজিনিয়ার পরিবারের চার সদস্যের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালের বিনামূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা করে দেন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই দারুণ লড়াই উপহার দেয় কেপ ভার্দে। যদিও শেষ পর্যন্ত শেষ ষোলোর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলটিকে। তবে পুরো ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে সবার প্রশংসা কুড়ান কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে কেপ ভার্দে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানায়। এর আগে গ্রুপ পর্বেও তারা ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ছিল।
শেষ ষোলোর ম্যাচে নির্ধারিত সময় শেষে স্কোর ছিল ২-২। অতিরিক্ত সময়ের ১১১তম মিনিটে একটি আত্মঘাতী গোল আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত সেই গোলেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।
পুরো টুর্নামেন্টে ভোজিনিয়া মোট ১৮টি সেভ করেন। পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী গোলরক্ষকদের মধ্যে এক আসরের বিশ্বকাপে এর চেয়ে বেশি সেভ করেছেন শুধু ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ২৮টি) এবং ইতালির দিনো জফ (১৯৮২ সালে ২৭টি)।
এদিকে গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোজিনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে মেসি তাঁর প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন, যেন ভোজিনিয়ার পরিবারের চার সদস্যের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার বিনামূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়। পরে সেই ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে ভোজিনিয়া জানান, মেসির সঙ্গে তাঁর একটি আবেগঘন মুহূর্ত হয়েছিল, যা তিনি সারাজীবন মনে রাখবেন।
চিলির সংবাদমাধ্যম লা তেরসেরা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, যা পরে গোল ডটকম উদ্ধৃত করে, ভোজিনিয়া বলেন, ‘ম্যাচ শেষে আমি মেসির কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং বলেন, "তুমি অসাধারণ। তোমার দেশ তোমাকে নিয়ে গর্ব করতে পারে।" আমার জন্য এটি ছিল অবিশ্বাস্য একটি মুহূর্ত। লিও মেসির মতো একজনের মুখে এমন কথা শোনা সত্যিই অনেক বড় ব্যাপার।’
ভোজিনিয়া আরও জানান, সেই স্মরণীয় সাক্ষাতের স্মৃতি হিসেবে তিনি মেসির জার্সিও চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছিলাম, "ধন্যবাদ, লিও। তুমি সেরা।" এরপর আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করি, আমরা কি জার্সি বদল করতে পারি? লিও বলেছিল, সাক্ষাৎকার শেষ করে টানেলে এসে সে আমাকে তার জার্সি দেবে।’
ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছিল কেপ ভার্দে। রায়ান মেন্দেস শুরুতেই আর্জেন্টিনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দারুণ তির্যক পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন মেসি। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তাঁর সপ্তম গোল, যা তাঁকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে নিয়ে যায়।
প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় কেপ ভার্দে। প্রায় এক ঘণ্টার মাথায় রায়ান মেন্দেসের পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন দেরয় দুয়ার্তে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই ছিল কেপ ভার্দের ইতিহাসের প্রথম গোল।
এরপর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও ভোজিনিয়ার দুর্দান্ত গোলরক্ষণের সামনে বারবার ব্যর্থ হন মেসিসহ আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। তাঁর একের পর এক অসাধারণ সেভের কারণেই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ কাছ থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে আবারও এগিয়ে দেন।
তবে কেপ ভার্দেও হাল ছাড়েনি। ১০৩তম মিনিটে সিদনি লোপেস কাবরাল কঠিন কোণ থেকে দারুণ বাঁকানো শটে গোল করে আবারও সমতায় ফেরান দলকে।
শেষ পর্যন্ত ১১১তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর শক্তিশালী হেড ডিনেই বোর্জেসের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে পড়ে। আত্মঘাতী সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কেপ ভার্দে আবারও সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সিদনি লোপেস কাবরালের শক্তিশালী ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। তাঁর সেই গুরুত্বপূর্ণ সেভেই জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।