মার্টিনেজ © টিডিসি ফটো
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের আগে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘ডিবু’ মার্টিনেজকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান। সেখানে পেনাল্টিতে প্রতিপক্ষকে মানসিক চাপে ফেলা থেকে শুরু করে ম্যাচে সময় নষ্ট করা—এমন ১০টি ‘নোংরা কৌশল’-এর তালিকা প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। তবে অনেকের মতে, এই প্রতিবেদন আসলে মার্টিনেজকে নিয়ে ইংল্যান্ডের শঙ্কারই প্রতিফলন।
আটলান্টায় সেমিফাইনালের আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য সান দেখানোর চেষ্টা করেছে, কীভাবে মার্টিনেজ প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেন। পেনাল্টির সময় ভয় দেখানো, কথার মাধ্যমে উসকানি দেওয়া, বল ফেরত দিতে দেরি করা, প্রতিপক্ষের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা নিজেকে ম্যাচের ‘ভিলেন’ হিসেবে উপস্থাপন করা—এসব আচরণকে তারা তার অন্যতম কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, মার্টিনেজ শুধু গোলপোস্টই রক্ষা করেন না, প্রতিপক্ষের মানসিক অবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। নিজের শারীরিক গঠনকে কাজে লাগিয়ে তিনি পেনাল্টি নেওয়া ফুটবলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। কখনও রেফারির সঙ্গে কথা বলে, কখনও সময় নষ্ট করে, আবার কখনও প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলে ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এসব কৌশলের বেশির ভাগই আধুনিক গোলরক্ষকদের খেলার অংশ। পার্থক্য হলো, মার্টিনেজ এগুলো অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস ও নাটকীয়তার সঙ্গে করেন। ফলে সেগুলো সহজেই সবার নজরে আসে এবং প্রতিপক্ষের ওপরও প্রভাব ফেলে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে আছে। সেই ম্যাচে তার মানসিক দৃঢ়তা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার ক্ষমতা আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
অনেকে মনে করছেন, দ্য সানের এই প্রতিবেদন উল্টো মার্টিনেজকেই আরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ম্যাচ শুরুর আগেই তাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করেছে।
দ্য সানের তালিকায় মার্টিনেজের যে ১০টি ‘নোংরা কৌশল’ উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—
১. পেনাল্টির সময় প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে ভয় দেখানো।
২. মুখে উসকানিমূলক কথা বলা।
৩. ইচ্ছাকৃতভাবে বল ফেরত দিতে দেরি করা।
৪. বল দূরে ছুড়ে ফেলা।
৫. রেফারির কাছে বারবার অভিযোগ করা।
৬. অতিরিক্ত উদযাপন করা।
৭. প্রতিপক্ষের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে থাকা।
৮. নিজের বিশাল শারীরিক গঠনকে কাজে লাগানো।
৯. হিসাব করে বলের রিবাউন্ড নেওয়া।
১০. মাঠে সচেতনভাবে ‘ভিলেন’ বা খলনায়কের ভূমিকা পালন করা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে এই প্রতিবেদন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের লড়াইয়েও মার্টিনেজ তার মানসিক খেলার প্রভাব ধরে রাখতে পারেন কি না।