আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ © টিডিসি ফটো
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে বাড়তি এক আবেগ কাজ করছে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের পাশাপাশি কোচ লিওনেল স্কালোনির কোচিং স্টাফের কয়েকজন সদস্যের সামনে এসেছে ২০০২ বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতি মুছে দেওয়ার সুযোগ।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল দ্বৈরথ বহু বছরের। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ এই লড়াইকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়ে পরিণত করে।
তবে স্কালোনির কোচিং স্টাফের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব আরও আলাদা। তার সহকারী পাবলো আইমার, ওয়াল্টার সামুয়েল ও রবার্তো আয়ালা—তিনজনই একসময় আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনো তাদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।
দুই দলের শেষ বিশ্বকাপ লড়াই হয়েছিল ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত আসরে। তখন আর্জেন্টিনার কোচ ছিলেন মার্সেলো বিয়েলসা। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের সাপ্পোরো ডোমে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।
সেই ম্যাচে ওয়াল্টার সামুয়েল রক্ষণভাগে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেছিলেন। অন্যদিকে, পাবলো আইমার দ্বিতীয়ার্ধে হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন।
রবার্তো আয়ালার জন্য সেই ম্যাচটি ছিল আরও হতাশার। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি করা এই ডিফেন্ডার ২০০২ বিশ্বকাপে চোটের কারণে খেলতেই পারেননি।
নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের ওয়ার্ম-আপে চোট পাওয়ায় আয়ালার জায়গায় একাদশে সুযোগ পান বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র দলের কোচ মৌরিসিও পোচেত্তিনো। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাইকেল ওভেনকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন তিনি। আর সেই সুযোগ থেকেই জয়সূচক গোল করেন ডেভিড বেকহ্যাম।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই হার শুধু একটি ম্যাচে পরাজয় ছিল না, পুরো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ভাগ্যই বদলে দিয়েছিল। প্রথম ম্যাচে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার গোলে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে ভালো শুরু করলেও পরে ইংল্যান্ডের কাছে হারে আলবিসেলেস্তেরা। শেষ ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় তাদের।
২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। তাই স্কালোনির কোচিং স্টাফের জন্য এই ম্যাচ শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, ২০০২ সালের সেই বেদনাদায়ক স্মৃতির জবাব দেওয়ারও সুযোগ। খেলোয়াড় হিসেবে যে আক্ষেপ তারা দূর করতে পারেননি, এবার কোচিং স্টাফের সদস্য হিসেবে সেটিই মুছে দেওয়ার লক্ষ্য থাকবে তাদের।