দুই গ্রুপের মারামারি © টিডিসি ফটো
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় স্টেডিয়ামের বাইরে দুই আর্জেন্টাইন ক্লাবের উগ্র সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সান লরেঞ্জো ও হুরাকানের সমর্থক গোষ্ঠীর সদস্যরা হাতাহাতি, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তিনজনকে আটক করে।
বিশ্বকাপজুড়ে আয়োজকদের মূল উদ্বেগ ছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষ। সে কারণে দুই দলের সমর্থকদের জন্য আলাদা টিকিট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ঝামেলা বাধে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের নিজেদের মধ্যেই।
আটলান্টায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ঐতিহ্যবাহী জমায়েত ‘বান্দেরাজো’তে সান লরেঞ্জো ও হুরাকানের উগ্র সমর্থক গোষ্ঠী মুখোমুখি হয়। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের জেরে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সময়কার সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তিই ঘটাতে চেয়েছিল তারা।
জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উসকানিমূলক বার্তা চলছিল। সান লরেঞ্জোর সমর্থক গোষ্ঠী ‘লা বুটেলেরা’ ২৪ সদস্যের একটি দল নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে। তাদের মধ্যে এমন কয়েকজনও রয়েছেন, যারা ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন।
অন্যদিকে, হুরাকানের সমর্থক গোষ্ঠীর সদস্যরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন। যদিও তাদের থাকার জায়গা এবং স্টেডিয়ামে বসার স্থান আলাদা থাকায় এত দিন বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
মঙ্গলবার বিকেলে আটলান্টার উন্মুক্ত সমর্থক সমাবেশে বিভিন্ন ক্লাবের সমর্থকদের পাশাপাশি উগ্র সমর্থকরাও উপস্থিত হন। শুরুতে পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ হুরাকানের ‘পাগোলা’ গ্রুপের কয়েকজন সদস্য সান লরেঞ্জোর সমর্থকদের উদ্দেশে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়। একপর্যায়ে তারা পাশের একটি বারের চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকে। পরে কাঠের তক্তা ও লাঠিসোঁটা নিয়েও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
হঠাৎ এমন ঘটনায় সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়ে সরে যান। খবর পেয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের উপস্থিতির পরও তিনজন উগ্র সমর্থক সংঘর্ষ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনকারী আর্জেন্টিনার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যেসব উগ্র সমর্থকের পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে আজীবন প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, হুরাকান ও সান লরেঞ্জোর কয়েকজন উগ্র সমর্থকের বিরুদ্ধে আগেই স্টেডিয়ামে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে বিশ্বকাপের আগে তারা সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করাতে সক্ষম হন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে হুরাকানের ‘পাগোলা’ গ্রুপের নেতা সেবাস্তিয়ান পেরোনেও ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গত বছর সান লরেঞ্জোর বিপক্ষে ডার্বি ম্যাচে গ্যালারিতে সংঘর্ষে জড়ানোর কারণে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী শুধু আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের নয়, আর্জেন্টিনার বিভিন্ন ক্লাবের উগ্র সমর্থকদের কর্মকাণ্ডের ওপরও বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে।