আর্জেন্টিনা ফুটবল দল © সংগৃহীত
বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে অনলাইনে একটি আবেদনকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে করা ওই আবেদনে ৯০ লাখের বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদনটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, রেফারিদের একাধিক সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে এবং সেই কারণেই দলটিকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া উচিত।
এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠতে পাঁচটি দলকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে নকআউট পর্বে মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের জয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, কয়েকটি ম্যাচে রেফারিদের সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে। বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসির একটি কঠোর ফাউলের পরও তাকে কোনো কার্ড না দেখানোয় অনেক ফুটবলভক্ত প্রশ্ন তুলেছেন।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ArgentinaOut.com নামে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
প্রচারকারীরা বলেছে, ‘ফিফা ও রেফারিরা লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। বিজয়ী যদি আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে অন্য দলগুলোর প্রতিযোগিতা করার অর্থ কী? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে অন্য দলগুলোকে সমান সুযোগ দেওয়া হোক।’
প্রচারকারীদের দাবি, এই দাবির পক্ষে ইতোমধ্যে ৯০ লাখের বেশি মানুষ অনলাইনে সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ দুই দেশের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও আরও উত্তপ্ত করেছে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের পর থেকে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পায়। প্রায় চার দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল।
তবে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে করা এই অনলাইন আবেদনের সত্যতা, সমর্থনকারীর প্রকৃত সংখ্যা কিংবা এর কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনি কার্যকারিতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফাও কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি।