লিওনেল মেসি © সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে লিওনেল মেসিকে থামানোর কৌশল নিয়ে ভাবছে ইংল্যান্ড। দলটির প্রধান কোচ থমাস টুখেল জানিয়েছেন, মেসিকে আটকাতে পুরোনো ধাঁচের ম্যান মার্কিং কৌশল প্রয়োগের বিষয়টি তিনি বিবেচনা করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মঙ্গলবার আটলান্টায় ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টুখেল বলেন, ‘আমি ভেবেছি, মেসির জন্য পুরোনো ধাঁচের ম্যান মার্কিং করা যায় কি না। তবে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করব কি না, নিশ্চিত নই। বিষয়টি অবশ্যই আমার মাথায় এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘মেসি মাঠের কোন জায়গায় যেতে চায়, সেটা সবাই জানে। কিন্তু সমস্যা হলো, সে অন্য সবার আগে পরিস্থিতি বুঝে ফেলে। মনে হয় বল যেন নিজেই তার কাছে চলে আসে। সে ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেয়, নিজের বাঁ পায়ের জন্য জায়গা তৈরি করে এবং সর্বোচ্চ মানে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে।’
টুখেলের বলেন, আর্জেন্টিনার খেলার কিছু নির্দিষ্ট ধরণ তারা বিশ্লেষণ করেছেন। তবে সেই পথ বন্ধ করে দিলেও মেসি নতুন সমাধান বের করে ফেলতে পারেন। আমরা তাদের খেলার কিছু প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু আমরা যদি সেগুলো বন্ধও করে দিই, মেসি নতুন প্যাটার্ন তৈরি করবে কিংবা নতুন পথ বের করবে। এটাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আটটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। এই আট গোলের সুবাদে তিনি ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তার বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা এখন ২১।
টুখেল বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলা বিশেষ কিছু। লিওনেল মেসি ও তার দলের বিপক্ষে খেলাও অনন্য অভিজ্ঞতা। ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা—সব দিক থেকেই এটি একটি বড় ম্যাচ।’
দলের অবস্থা নিয়ে টুখেল জানান, জর্ডান হেন্ডারসন ভাঙা হাতের কারণে এবং জ্যারেল কোয়ানসা নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারবেন না। এ ছাড়া বাকি সব খেলোয়াড়ই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকেও বড় করে দেখতে চান না টুখেল। তিনি বলেন, ‘আমরা এটিকে অতিরিক্ত অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে ব্যবহার করছি না। আমরা জানি কেন এখানে এসেছি এবং আমাদের লক্ষ্য কী। প্রতিপক্ষকে সম্মান করি, কিন্তু অতীতের ঘটনাগুলো টেনে এনে ম্যাচটিকে আরও বড় করে দেখছি না। এটি একটি বড় ফুটবল ম্যাচ এবং আমরা ক্ষুধার্ত, প্রস্তুত ও রোমাঞ্চিত।’
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কঠিন যাত্রার কথাও তুলে ধরেন টুখেল। তিনি বলেন, নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই ছিল মানসিকভাবে ক্লান্তিকর। কঙ্গো ডিআরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তন, মেক্সিকোর বিপক্ষে ১০ জন নিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় এবং মিয়ামির প্রচণ্ড গরমে নরওয়ের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে জয় সবকিছুই দলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘লাল কার্ড, পিছিয়ে পড়া, ভিএআর পর্যালোচনা, অতিরিক্ত সময় সব মিলিয়ে আমরা যেন রোলার কোস্টারের মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছি। এগুলো মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেক শক্তি ক্ষয় করেছে। উচ্চতা, গরম আবহাওয়া এবং এক শহর থেকে আরেক শহরে ভ্রমণ সব মিলিয়ে এটি কঠিন ছিল।’
ব্যস্ত সূচির মধ্যেও নিজেকে কীভাবে সতেজ রাখেন এমন প্রশ্নের জবাবে টুখেল বলেন, ‘আমি সকালে শরীরচর্চা করি। কখনো সাইকেল চালাই। কখনো শুধু বড় একটি পার্কিং এলাকায় আইসক্রিম হাতে ১৫ মিনিট কাটালেই নিজেকে আবার ১৫ বছরের কিশোর মনে হয়। গ্রীষ্মের সন্ধ্যার সৌন্দর্য উপভোগ করলে আবার নতুন করে শক্তি ফিরে পাই।’