মিসর কোচ হোসাম হাসান ও লিওনেল মেসি © সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বুধবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য এই সেমিফাইনালে জয় পেলেই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের টিকিট নিশ্চিত করবে লিওনেল মেসির দল। তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচের স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে মিসরকে।
সেই ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে পারেনি মিসর। অতিরিক্ত সময়ে গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। ম্যাচ শেষে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসান।
হাসানের দাবি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউলের অভিযোগ তুলে মোস্তফা জিকোর করা দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করে রেফারি আর্জেন্টিনার পক্ষেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মিসরের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ রেফারিকে ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং দ্রুত খেলা শুরু করতে অধিনায়ক লিওনেল মেসিসহ আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ও সেখানে এগিয়ে আসেন।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে দুই হাত দিয়ে ক্রস চিহ্ন দেখান হোসাম হাসান। যদিও ফরাসি রেফারি বিষয়টি খেয়াল করেননি, তবে অতিরিক্ত প্রতিবাদের কারণে মিসর কোচকে হলুদ কার্ড দেখান।
টেলিভিশনের সম্প্রচারে হাসানের ওই অঙ্গভঙ্গি দেখে অনেক ফুটবলপ্রেমী ধারণা করেন, তিনি বর্ণবাদ বা বৈষম্যের অভিযোগে ম্যাচ স্থগিতের জন্য ব্যবহৃত অফিশিয়াল প্রটোকলের সংকেতই দিতে চেয়েছিলেন। তবে প্রায় এক সপ্তাহ পর ওই ঘটনার আসল কারণ জানিয়েছেন হোসাম।
তিনি বলেছেন, ‘আমার সেই ইশারাটি বর্ণবাদ নিয়ে ছিল না। আমি রেফারিকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে “আপনি ন্যায়বিচার করছেন না”।’
ওই ম্যাচে পেনাল্টি বক্সের কাছে মেসির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়েও কথা বলেন মিসরীয় কোচ। তিনি বলেছেন, ‘মেসি আমার দিকে এগিয়ে এসে বারবার বলতে থাকে, ‘কেন? কেন? কেন? আরও কী যেন বলছিল। ম্যাচ চলাকালীন মেসিকে খুব কম সময়ই এভাবে তর্কে জড়াতে দেখা যায়। আবেগের বিস্ফোরণে এক পর্যায়ে সে কেঁদেও ফেলেছিল, কারণ মানসিকভাবে সে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিল।’