আর্জেন্টিনা ফুটবল দল © টিডিসি ফটো
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই দুই দলের সমর্থকদের আগ্রহের প্রভাব পড়েছে টিকিটের বাজারে। ম্যাচটির টিকিটের দাম পুনর্বিক্রয় বাজারে আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য উঠেছে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি অধ্যায়। দুই দলের বর্তমান শক্তিমত্তা, ঐতিহাসিক দ্বৈরথ এবং বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চ—সব মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের টিকিটের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, বৈধ পুনর্বিক্রয় বাজারেও এর দাম কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছেছে। সবচেয়ে কম দামের ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দামও এখন ২ হাজার ৬০০ ডলারের বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
অন্যদিকে সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
ম্যাচটির গুরুত্ব শুধু বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বলেই নয়, দুই দলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেও টিকিটের চাহিদা এত বেশি। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা দুই দল যখন শিরোপার দৌড়ে মুখোমুখি হচ্ছে, তখন সমর্থকদের আগ্রহও বেড়েছে কয়েক গুণ।
যদিও ম্যাচের আগে দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা উত্তেজনা না বাড়িয়ে শান্ত থাকার চেষ্টা করছেন, তবে সমর্থকদের মধ্যে এই ম্যাচ নিয়ে আলাদা আবেগ কাজ করছে। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া মানেই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।
ফিফার অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে সরবরাহ ও চাহিদার ভিত্তিতে টিকিটের দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। পুনর্বিক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে দর্শকেরা টিকিট কেনাবেচা করতে পারছেন। এর ফলেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম অনেক বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপের মাঝেই সুখবর পেলেন দিবালা
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিটের দামের সঙ্গে আর্জেন্টিনার আগের ম্যাচগুলোর তুলনাও করা হচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচটি ছিল পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম দামের টিকিটের ম্যাচ। ওই ম্যাচের টিকিট পাওয়া যাচ্ছিল প্রায় ৮০০ ডলার থেকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৮ হাজার টাকা।
অন্যদিকে মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্পেন ও ফ্রান্সের সেমিফাইনালের টিকিটের দাম তুলনামূলক কম। ফিফার অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে এই ম্যাচের টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলার থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
তবে অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম যেমন স্টাবহাব কিংবা দুই সমর্থকের সরাসরি লেনদেনের মাধ্যমে আরও কম দামে টিকিট পাওয়া যেতে পারে। এতে প্রায় ৩০ শতাংশ কমিশনও এড়ানো সম্ভব।
বিশ্বকাপে টিকিট পুনর্বিক্রয়ের ঘটনা নতুন নয়। তবে এবারের বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো বৈধ পুনর্বিক্রয় ব্যবস্থা চালু করেছে ফিফা। যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত কাঠামো কাজে লাগিয়ে ফিফা স্থানীয় ক্রীড়া লিগগুলোর, বিশেষ করে এনবিএর মতো ব্যবস্থার অনুসরণ করেছে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ফিফা বড় অঙ্কের আয় করার সুযোগ পেয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তারা ধারণা করেছিল, এই খাত থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এই আয় কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
একই সঙ্গে নতুন টিকিট ব্যবস্থার কারণে স্টেডিয়ামগুলো দর্শকে পূর্ণ রাখার লক্ষ্যও পূরণ হয়েছে। আয়োজকদের কাছে এটি সফল উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০৩০ বিশ্বকাপেও এই পদ্ধতি চালু রাখার পরিকল্পনা করতে পারে ফিফা।
তবে সমর্থকদের জন্য এই ব্যবস্থা নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ বিশ্বকাপের টিকিট দিন দিন সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যারা নিয়মিত মাঠে গিয়ে খেলা দেখেন কিংবা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রিয় দলের পাশে থাকতে চান, তাদের জন্য এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর ফলে স্টেডিয়ামের দর্শকদের চিত্রও বদলে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার জার্সি পরে গ্যালারিতে থাকা অনেক দর্শক এখন আর শুধু আর্জেন্টাইন নন। যুক্তরাষ্ট্র, মধ্য আমেরিকা ও এশিয়ার অনেক সমর্থকও বিপুল অর্থ খরচ করে লিওনেল মেসি ও লিওনেল স্কালোনির দলের খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত হচ্ছেন।