লিওনেল মেসি © টিডিসি ফটো
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একবার মাঠে নামার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন এই মহাতারকা। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এখনো পর্যন্ত একটি ম্যাচও খেলতে পারেননি তিনি। বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালের আগে মেসির সেই অপূর্ণ অধ্যায় আবারও আলোচনায় এসেছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে মেসিকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো, কেন এত বছরেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি তার। অথচ একবার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। দলেও ছিলেন তিনি। কিন্তু একটি অপ্রত্যাশিত কারণে সেই ম্যাচে বেঞ্চেও বসা হয়নি তার, দেখতে হয়েছিল গ্যালারি থেকে।
ঘটনাটি ২০০৫ সালের ১২ নভেম্বরের। জার্মানি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেই সময় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচটি ছিল দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় লড়াইয়ে ইংল্যান্ড ৩-২ গোলে জয় পায়। মাইকেল ওয়েনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় তুলে নেয় ইংলিশরা।
সেই সময় মেসি ছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের একেবারে নতুন মুখ। মাত্র কয়েক মাস আগে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল তার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য কোচ হোসে পেকারম্যান দলে রেখেছিলেন তরুণ মেসিকে। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি আর্জেন্টাইন তারকার।
এর কারণ ছিল আগের ম্যাচে পাওয়া নিষেধাজ্ঞা। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর হাঙ্গেরির বিপক্ষে ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন মেসি। কিন্তু মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই লাল কার্ড দেখে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি।
কোচ পেকারম্যান তাকে স্কোয়াডে রেখেছিলেন ঠিকই, কিন্তু ম্যাচের সময় মাঠে নয়, গ্যালারিতে বসেই সতীর্থদের খেলা দেখতে হয়েছিল মেসিকে। কয়েক দিন পর কাতারের দোহায় কাতারের বিপক্ষে ম্যাচে আবারও আর্জেন্টিনা দলে ফেরেন তিনি এবং মাঠে নামার সুযোগ পান।
২০০৫ সালের সেই ম্যাচে শুরুটা ভালো করেছিল আর্জেন্টিনা। হোসে পেকারম্যানের দল এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেছিলেন হার্নান ক্রেসপো ও রবার্তো আয়ালা। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হয়ে মাইকেল ওয়েন দুটি এবং ওয়েন রুনি একটি গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।
এরপর থেকে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে আর কোনো ম্যাচে মেসির মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। ফলে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফুটবলারের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা এখনো শূন্য।
তবে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামবেন মেসি। ২০০৫ সালে যে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েও নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠে নামতে পারেননি, এবার সেই দলের বিপক্ষেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেতৃত্ব দেবেন তিনি।
২০০৫ সালের অসম্পূর্ণ সেই অধ্যায়ের পর ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মেসি ও ইংল্যান্ড—দুই পক্ষের কাছেই বিশেষ এক মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে মেসির প্রথম ইংল্যান্ড পরীক্ষা, অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে থামানোর বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবে ইংলিশরা।