উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। © টিডিসি ছবি
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার ব্যাপক চাহিদা তৈরির লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দক্ষ গ্রাজুয়েট প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আমাদের ডিগ্রিধারীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার ব্যাপক চাহিদা তৈরি করতে আমরা কাজ করছি। এ লক্ষ্যে ইউনিসেফ বাংলাদেশকে আমাদের লিড পার্টনার হিসেবে পাশে পাওয়ার প্রত্যাশা করি।’
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ভাইস-চ্যান্সেলরের দপ্তরের কনফারেন্স হলে ইউনিসেফের গ্লোবাল টিমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর দেশের ফরমাল ও ইনফরমাল সেক্টরে প্রায় ৭০ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করে। বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েটকে দক্ষ ও কর্মমুখী করে তুলতে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় তারুণ্যের উন্নয়নেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জেনারেশন আনলিমিটেডের অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ বলেন, আইসিটি ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে দেশের অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে সারাদেশব্যাপী গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে কর্মমুখী কোর্স চালু করা হয়েছে এবং কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সভায় ইউনিসেফের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের জেনারেশন আনলিমিটেডের সিনিয়র উপদেষ্টা থমাস মাইকেল কে। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান এবং এর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক তরুণ যুক্ত। তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউনিসেফ একসঙ্গে কাজ করছে।
সভায় মাইক্রো-ক্রেডেনসিয়াল একাডেমি প্রতিষ্ঠা ও কোর্স উন্নয়ন, স্কিল বেইজড কোর্স, আইসিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট ও কারিকুলাম উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা নিয়ে গবেষণার ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. নাজমুল হোসাইনসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভাগের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে যুক্ত ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান।
সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের চলমান সহযোগিতা আরও জোরদার এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।