আরবি বিশ্ববিদ্যালয়
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইআবি) অনিয়ম ও আর্থিক বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করেছে। প্রাপ্যতার সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির ১০১ জন কর্মকর্তা বিধিবহির্ভূতভাবে বকেয়া বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা পরিদর্শন প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাপ্যতাবিহীন ও বিধিবহির্ভূতভাবে বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান করায় সরকারের মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ৪৬ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আদায় করে ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি শাখা-৫-এর নির্দেশনাবলী এবং ইউজিসির বাজেট পরিপত্রের শর্ত লঙ্ঘন করে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন কার্যকরের তারিখ থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়। যোগদানের পূর্ববর্তী সময়ের এই বকেয়া আর্থিক সুবিধা প্রদান সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামার এ কে এম এ তারিক এবং মো. শরফুদ্দিন পারভেজ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৮৪ টাকা করে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়েছেন। আরেক প্রোগ্রামার মোবাশের আলী ভূঁঞা নিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৪ টাকা।
সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. ইয়াসিন আলী, মুহাম্মদ আব্দুল লতিফকে ৯৯ হাজার ৬৯২ টাকা করে ফেরত দিতে হবে। সহকারী মাদ্রাসা পরিদর্শক মো. লুৎফুর রহমানকেও একই পরিমান অর্থাৎ ৯৯ হাজার ৬৯২ টাকা, সহকারী পরিচালক মো. মোশাররফ হোসাইন ৯৯ হাজার ৬৯২ টাকা ফেরত দিতে হবে।
সহকারী রেজিস্ট্রার মো. শাহ নেওয়াজ, মো. জাহান উদ্দিন, মো. মাহবুবুর রহমান, মো. ফয়সাল কবির, মোঃ আনিসুল কিবরিয়া, আরিফ আহমদ, মো. তানজির রহমান, মো. ইমরুল কায়েস, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. ইকবাল, মো. ফকরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ মুসা, মোহাম্মদ হোসেন, সহ মাদ্রাসা পরিদর্শক মুহাম্মদ আখলাকুল আম্বিয়া, মো. শামীম হোসেন খান, মোঃ আব্দুন নূর, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. মাসুদ রানা, শেখ মোঃ রায়হান, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাকির হোসাইন, মো. সুমন আলী, মো. ফয়সাল আহমেদ, মো. রুমী কিসলু, মিজানুর রহমান, মো. আরফান আলী শাহ, মো. আব্দুস সালাম বাসেদ, মো. মুশফিকুর রহমান ফিরোজ, মো. মুরাদ হোসেন, মো. সালাহ উদ্দিনকে ৯৯ হাজার ৬৯২ টাকা করে ফেরত দিতে হবে।
সহকারী রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, হাকিমুন নাহার, দিদার উল্লাহ, রাবেয়া জান্নাত, মো. রেজাউল ইসলাম, মোঃ হাফিজুল ইসলাম, শিরিনা আক্তার, মোঃ আব্দুল হান্নান, জাকিয়া খাতুন, আব্দুল্লাহ-আল জাফর, আজহারুল ইসলাম হিমেল, মোঃ জাহিদ হাসান, শফিকুল ইসলাম, দেবাংশু রঞ্জন নন্দী, মোঃ অজি উল্লাহ, মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, এস. এম সাদেকুর রহমান, মোঃ মহিব্বুল্লাহ, সোমা আক্তার, মোঃ মনির হোসেন, ড. ছিদ্দিকুর রহমান, সহ পরিচালক মোঃ হারুন-অর-রহীদ, ফারজানা তানিয়া, আজমিরা সিনথিয়াকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬ টাকা করে ফেরত দিতে হবে।
প্রোগ্রামার মোঃ রুহুল আমিন, সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ হাসানুজ্জামান, মাহবুবুর রহমান, এস.এফ.এম. আসআদ আউয়াল, মোহাম্মদ শরফুদ্দীন, মোহাম্মদ মাহফিজুর রহমান, বেলায়েত হোসেন, মোহাম্মদ আসিফ মুরাদ, আবু নোমান মোঃ আব্দুল্লাহ আল মারুফ, মোঃ আনছারুল ইসলাম, মোঃ হাসিবুর রহমান সাগর, মোঃ দিলওয়ার হোসাইন এবং আসাদুজ্জামানকে ৯৫ হাজার ১১০ টাকা করে ফেরত দিতে হবে।
সেকশন অফিসার মাহফুজুর রহমানকে ফেরত দিতে হবে ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫৪৪ টাকা; মোহাম্মদ আব্দুল গফুর, মাছুদ রানা, বশির আহমদ কুতুবী, ওমর ফারুক রাসেল, মোঃ মশিউর রহমান, সৈয়দ বদরুল ইসলাম, মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, তোফায়েল আহমদ, ইব্রাহীম হোসাইন, মোঃ নাজমুল হোসেনকে ৫ লাখ ২০ হাজার ৮০৯ টাকা করে ফেরত দিতে হবে।
সেকশন অফিসার এনামুল হক, ছায়েদ আহাম্মদ মজুমদার, মোঃ জাকারিয়া মাসুদ, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সাখাওয়াত এবং ছিদ্দিকুর রহমানকে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৪৮৩ টাকা করে ফেরত দিতে হবে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ কাউছারকে ২ লাখ ৫২ হাজার ১৪৪ টাকা, শিবলী শাহরিয়ার এবং মোছা. সুরাইয়া আক্তারকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪২৬ টাকা করে ফেরত দিতে হবে।
সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মোঃ হারুনুর রশিদ, সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) আশফাক আখতার, সহকারী অধ্যাপক (ইসলামী স্টাডিজ) মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চৌধুরীকে ৮ লাখ ৮ হাজার ২৯০ টাকা করে এবং সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মুহাম্মদ জাহিদ উল্লাহ ও সহকারী অধ্যাপক (আরবি) মোঃ জহিরুল ইসলামকে ৭ লাখ ৭০ হাজার ১৭৭ টাকা করে ফেরত দিতে হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান ফোন রিসিভ করেননি।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ইনক্রিমেন্ট নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে অডিট আপত্তি এসেছে; তাদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত পেতে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। উপাচার্যের দপ্তর থেকে এ চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপত্তির পুরো অর্থ একেবারে পরিশোধের নির্দেশনা দিয়েছে। তবে কর্মকর্তারা কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে চান। এজন্য আলোচনা চলছে। আপত্তি জানানো পুরো অর্থ ফেরত নেওয়া হবে।’