ইবির বিভাগ থেকে পরীক্ষার খাতা উধাও, প্রোভিসির উপর দায় চাপানোর চেষ্টা

০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ PM
অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন

অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন © টিডিসি সম্পাদিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার একটি কোর্সের ৬০টির বেশি খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ মাস ধরে আটকে আছে শিক্ষার্থীদের ফলাফল। প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশ করতে না পারায় পরবর্তী সেমিস্টারের পরীক্ষাও স্থগিত করেছে বিভাগ। এদিকে মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষার খাতা হাতে না পেলেও খাতা হারিয়ে ফেলার দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের উপর। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা গত ২ মে শুরু হয়ে শেষ হয় ২০ মে। এ সেমিস্টারে মোট ছয়টি কোর্সের মধ্যে পাঁচটির নম্বরপত্র পরীক্ষা কমিটির সভাপতির কাছে জমা পড়েছে। তবে ২১০৭ নম্বর কোর্সের (History of the Modern Europe Till 1848 A.C.) উত্তরপত্রের হদিস না পাওয়ায় ফল প্রকাশ করা যাচ্ছে না। গত ১১ মে কোর্সটির উত্তরপত্র পান অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক ড. শাহাবুল আলম। তিনি ২০ মে মূল্যায়ন শেষে খাতাগুলো বিভাগে জমা দেন। বহিরাগত পরীক্ষক হিসেবে খাতা মূল্যায়নের কথা ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের। কিন্তু খাতা গুলোর সন্ধান না পাওয়ায় তিনি মূল্যায়ন করতে পারেননি। 

এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে খাতা হারিয়ে ফেলার দায় দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে বিভাগের কর্মচারী জাবেদ আলী তাকে খাতা বুঝিয়ে দিয়েছেন বলা হলেও বাস্তবে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

সাধারণত যেকোনো কোর্সের পরীক্ষা শেষ হলে পরীক্ষার হল থেকে খাতা সংগ্রহ এবং প্রথম পরীক্ষকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া, তার খাতা মূল্যায়ন শেষ হলে আবার বিভাগের কর্মচারীদের দ্বারা বুঝে নেওয়া এবং বহিরাগত পরীক্ষক কে খাতা বুঝিয়ে, তার মূল্যায়ন শেষে আবারও বিভাগের পক্ষ থেকে খাতা ও নম্বরশিট বুঝে নিয়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতির কাছে হস্তান্তর করার প্রতিটি ধাপে একটি পিওন বুকে এন্ট্রি রাখা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের স্বাক্ষর সমেত এন্ট্রি করা থাকে। কিন্তু এই কোর্সের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষক খাতা মূল্যায়নের পর ফেরত দিলেও পিওন বুকে বহিরাগত পরীক্ষক ড. এমতাজ হোসেনের নামের পাশে খাতা বুঝে পেয়েছেন মর্মে কোন স্বাক্ষর নেই। 

এ ঘটনায় কর্মচারী জাভেদ আলী বলেন, 'আগে যা হয়ে গেছে তা হয়েই গেছে। তিনদিন আগেই খবরে আসছে। এ নিয়ে আমার নতুন করে কিছু বলার নাই।' এসময় এন্ট্রি বুকে উপ-উপাচার্যের খাতা বুঝে পেয়েছেন মর্মে কোন স্বাক্ষর আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'আমি কিছু বলতে পারবো না। আছে কী নাই সেটা আপনারা খুঁজে দেখেন।' এরপরে তিনি ফোন কেটে দেন। 

জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, 'আমি প্রোভিসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরে আমি যখন বাসা শিফট করি তারপরে একদিন বিভাগের কর্মচারী জাভেদ আলী আমার বাসায় এসে হাতে একটা খাম দিয়ে বলেন স্যার এখানে নম্বর আছে। এই নম্বরটা থেকে কোর্সের শিক্ষার্থীদের আবার নাম্বারিং করে দেন। তখন আমি তাকে খাতা নিয়ে আসতে বলি। সে একটু ভেবে ঠিকাছে স্যার বলে চলে যায়। কয়েকদিন সে আবারও একই অনুরোধ নিয়ে আসলে আমি জিজ্ঞেস করি খাতা কোথায়? সে কাদো কাদো স্বরে বলে বিভাগে খাতা পাওয়া যায়নি। তখন আমি তাকে বকাঝকা করে চলে যেতে বলি। 

উপ-উপাচার্য বলেন, যেখানে আমার কাছে কোনো খাতাই আসেনি সেখানে মার্ক দেওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না। আমাকে না জানিয়ে অবগত না করে খাতা দেওয়া হয়েছে বললেই তো হবে না। যেখানে আমার কাছে কোন খাতাই আসেনি, সেখানে আমি খাতা হারিয়ে ফেললাম কিভাবে?' খাতা না পাওয়া সত্ত্বেও অযাচিতভাবে আমার উপর দায় চাপানো হচ্ছে। বিভাগ থেকে খাতা না আসলে নম্বর দেব কিভাবে? আমি ৩৩ বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছি। এতদিন কখনো খাতা হারালো না, আমি প্রোভিসি হওয়ার পরেই খাতা হারিয়ে গেল; এটা সন্দেহজনক।'

এদিকে এই ঘটনার তদন্তে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাবুল আলমকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করেছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগেরগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী। কমিটির প্রদানকৃত প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। উপাচার্যের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিক ভাবে পরিচালনা করা হবে বলে জানান বিভাগীয় সভাপতি ড. আব্দুল গফুর গাজী। 

ট্যাগ: ইবি
১০ মাস পর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মিটিং, যেসব বিষয় …
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য যাচাই ছাড়াই রিটার্ন দাখিল তৈরি করতে পারে ভবিষ্যৎ জটিলতা
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধা মেজর আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে বিক্ষো…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
শুধু ডিগ্রি নয়, চাই মানসম্মত উচ্চশিক্ষা
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ইবির বিভাগ থেকে পরীক্ষার খাতা উধাও, প্রোভিসির উপর দায় চাপান…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
রোগীর সময়ও স্বাস্থ্যসেবার একটি মূল্যবান সম্পদ
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬