প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি © সংগৃহীত
কানসাস সিটিতে আগামীকাল রবিবার (১২ জুলাই) সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচকে সামনে রেখে দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। সেখানে দলের প্রস্তুতি, প্রতিপক্ষসহ নানা বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি তাকে আর্জেন্টিনার প্রতি রেফারিদের কথিত পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।
জবাবে স্কালোনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ফিরে যান ১৯৮৬ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গে। সেবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। স্কালোনির মতে, আর্জেন্টিনা সুবিধা পাচ্ছে এমন অভিযোগ নতুন নয়, বহু বছর ধরেই এ ধরনের আলোচনা চলে আসছে।
স্কালোনি বলেন, ‘৮৬ সালেও তারা বলেছিল আমরা নাকি বিশেষ সুবিধা পাচ্ছি। তাই এটা নতুন কিছু নয়। আমার যতদূর মনে পড়ে, আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টে সবসময়ই একটি শক্তিশালী দল ছিল। একদিক থেকে বিষয়টি খেলোয়াড়দের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। কারণ এতে তারা বুঝতে পারে, এমন মানুষও আছে যারা চায় না আর্জেন্টিনা জিতুক। তবে এটা স্বাভাবিক বিষয়। যেমন অনেক মানুষ আছে যারা অন্য দলগুলোর জয়ও দেখতে চায় না।’
আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘হয়ত এমন মানুষের সংখ্যা আরও বেশি, যারা চায় না আমরা জিতি। আমরা সেটিও বিবেচনায় রাখি। খেলোয়াড়রা বিষয়টি বোঝে। আমরা এটাকে এক ধরনের বিদ্রোহের মানসিকতা হিসেবে ব্যবহার করি, যাতে তারা আরও ভালো পারফর্ম করতে পারে।’
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, ‘আজকের ভিএআর-এর কারণে সাহায্য পাওয়া খুব কঠিন’ এবং ‘ভিএআর-এ দ্বৈত ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই।’ এই প্রসঙ্গে তিনি গত ম্যাচে মিশরের বাতিল হওয়া গোলটিকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়ে কথা বলেন, ‘লিসান্দ্রো (মার্টিনেজ) এর পায়ে পা মাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সামান্য, বেশি বা প্রায় এবং এটি একটি ফাউল। এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা হতে পারে না।’
স্কালোনি জোরালো গলায় বললেন, ‘পক্ষপাতিত্বের কোনো অস্তিত্ব নেই’, এটা ‘সোশ্যাল মিডিয়াতেই হয়ে থাকে’। তার মতে, ‘আজকাল ছোট বিষয়গুলোকেও অতিরঞ্জিত করা হয়।’ তিনি শেষ করলেন, ‘ফুটবলে সাহায্য পাওয়ার মতো ব্যাপার এখন আর নেই। ২০২৬ সালে এসে যত প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে, এটা অসম্ভব। দিন শেষে নিয়ম তো আছে। সেগুলো পরিষ্কার। এগুলো বাস্তবতার চেয়েও বেশি কিছু।’
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে এসেও বিশেষ সুবিধা পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন শুনতে হয়েছিল স্কালোনিকে। আর্জেন্টিনা কোচ বলেছিলেন, ‘এর একমাত্র সমাধান হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না পড়া। সোশ্যাল মিডিয়া দেখা বন্ধ করে দিন, ব্যস। আপনি যদি না দেখেন, তবে এসব জানতেও পারবেন না।’ লাইক, কমেন্ট আর রিটুইটের এই যুগে যে কোনো ভিত্তিহীন বিষয়কেও কীভাবে তিল থেকে তাল করা হয়, তা খুব ভালো করেই জানা আছে স্কালোনির। তার মতে, মাঠের সাফল্যকে আড়াল করতে অনেকে এমন ‘সস্তা’ অপপ্রচার চালান।
ওই সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে স্কালোনি বলেন, ‘আজকাল যে কেউ কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইন্টারনেটে কিছু একটা পোস্ট করে দিতে পারে এবং ছোট একটা বিষয়কে বিশাল আকার দিয়ে ছড়াতে পারে। আমি মনে করি আমাদের এসব বিষয়কে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়।’
সবশেষ মিশর ম্যাচে তাদের একটি গোল বাতিল হওয়া এবং শেষ দিকে পেনাল্টির আবেদন জানালে রেফারির রিভিউ না নেওয়ার কারণে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। ম্যাচটি ২-০ গোলে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলে জেতে আলবিসেলেস্তেরা।