এমবাপে © সংগৃহীত
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা কিলিয়ান এমবাপে পেনাল্টি মিস করেও নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশ নন। ফ্রান্সের তারকা এই ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তির কারণে পেনাল্টির সময় তিনি মনোযোগ ধরে রাখতে পারেননি।
মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ গোলের জয়ে ফ্রান্স সেমিফাইনালে উঠেছে। ম্যাচে একটি গোল করে এবারের বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আটে নিয়ে গেছেন এমবাপে। তবে গোল করার পর চোটের কারণে তাকে কিছু সময়ের জন্য মাঠ ছাড়তে হয়। পরে বেঞ্চে বসে তার গোড়ালিতে বরফ দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়, যা নিয়ে ফরাসি সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
তবে ম্যাচ শেষে বেইন স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন এমবাপে। একই সঙ্গে সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দও প্রকাশ করেছেন তিনি। শেষ চারে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর।
মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার বিষয়ে এমবাপে বলেন, ‘আমি ভালোভাবে পেনাল্টি নিতে পারিনি, তবে পরিস্থিতিটা কঠিন ছিল। রেফারির সঙ্গে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তিনি আমাকে বলেছিলেন পেনাল্টি হয়েছে। আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু পরে তিনি এসে বললেন পেনাল্টি নেই। এতে আমি মনোযোগ হারিয়ে ফেলি।’
মাঠ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এমবাপে বলেন, ‘আমি ভালো আছি। আমার গোড়ালিতে আঘাত লেগেছিল, তবে এখন ঠিক আছি। সেই সময় জেপি (মাতেতা) আমার চেয়ে শেষ ১৫ মিনিট খেলার জন্য বেশি প্রস্তুত ছিল। তাই আমি মাঠ ছেড়েছি এবং সে নেমেছে। সেও প্রায় গোল করে ফেলেছিল।’
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের লক্ষ্য নিয়ে এমবাপে বলেন, ‘মিশন? আমি জানি না। আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। এখনো অনেক পথ বাকি। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে আমরা ভালোভাবে নিজেদের প্রস্তুত করব।’
মরক্কোর ডিফেন্ডার ও নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আশরাফ হাকিমিকে হারানো প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন এমবাপে। তিনি বলেন, ‘আমি কিছু অনুভব করছি না। আমি এখানে জয়ের জন্য এসেছি, সেও জয়ের জন্য এসেছিল। তবে ড্রেসিংরুমে যখন আবার তার সঙ্গে দেখা হবে, তখন বিষয়টি কঠিন হবে, কারণ সে আমার খুব কাছের বন্ধু।’
সেমিফাইনালে ওঠার অনুভূতি জানিয়ে এমবাপে বলেন, ‘শুধু একটি উপায়েই স্বস্তি পাওয়া যায়, আর তা হলো জয়। আমরা সেমিফাইনালে আছি। আমরা খুব খুশি। তবে এখনো অনেক পথ বাকি। সামনে যে চ্যালেঞ্জ আসছে, তা আমরা যেটার মুখোমুখি হয়েছি তার চেয়েও কঠিন হবে। তবে আমরা প্রস্তুত।’
বিশ্ব ফুটবলে স্মরণীয় দল হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এমবাপে। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা একটি অপরাজেয় দল হিসেবে স্মরণীয় হতে চাই, তাহলে এখনো আমাদের অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে।’