মেসি © টিডিসি ফটো
পেনাল্টি মিসের পর নিজের ওপর এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন লিওনেল মেসি যে একসময় মনে হয়েছিল, তার ভুলেই হয়তো বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হবে আর্জেন্টিনাকে। তবে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পরও সেই আক্ষেপ কাটেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়কের। ম্যাচ শেষে অকপটে জানালেন, সেই মুহূর্তে তার মনে হয়েছিল, ‘আমিই পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম।’
আটলান্টায় বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি আর্জেন্টিনার। ম্যাচের ১৯ মিনিটে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। পেনাল্টি থেকে গোল করার দায়িত্ব নেন মেসি। কিন্তু তার শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবর।
পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে উঠতেই পারেনি আর্জেন্টিনা। পরে আরও একটি গোল হজম করে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে একটি গোল করেন মেসি, আরেকটি গোলে অ্যাসিস্টও করেন তিনি।
তবু ম্যাচ শেষে নিজের পেনাল্টি মিস নিয়েই বেশি কথা বলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘পেনাল্টি মিস করার পর আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম নিজের ওপর। যেভাবে আমি শটটা নিয়েছি, তাতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি পুরো দলকে ডুবিয়ে দিলাম।’
তবে কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেওয়ায় স্বস্তিও প্রকাশ করেন মেসি। তার মতে, দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পর এমন প্রত্যাবর্তন সহজ ছিল না।
তিনি বলেন, ‘২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। পরবর্তী রাউন্ডে যেতে পেরে আমি খুশি এবং যেভাবে আমরা এটা করেছি তা নিয়েও। ২-০ হওয়ার পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আবারও ম্যাচটি নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়াটা অনেক রোমাঞ্চকর যাত্রা ছিল।’
মিসরের বিপক্ষে এই জয় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ইতিহাসেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দুই বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
এই অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের কৃতিত্ব পুরো দলকেই দিয়েছেন মেসি। তার মতে, আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা।
মেসি বলেন, ‘এই দলটা আরও একবার প্রমাণ করেছে, যা আমি অনেকবার বলেছি। আর আমি এটা জানি কারণ আমি ওদের চিনি, আমি জানি ওরা কীভাবে কাজ করে। এই গ্রুপটি লড়াই করতে বা বিশ্বাস রাখতে জানে। ওদের পাশে থাকাটাও আমার জন্য একটি সম্মানের বিষয়; আমরা যেকোনো দলের বিরুদ্ধে লড়াই করব।’
পেনাল্টি মিসের হতাশা, দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার চাপ এবং শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচটি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অন্যতম নাটকীয় জয়ে পরিণত হয়েছে। আর সেই জয় নিয়েই এখন কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।