কোলাজ ছবি © টিডিসি সম্পাদিত
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬ শেষ হতেই বদলে গেছে শিরোপা জয়ের সমীকরণ। নকআউট পর্বের পারফরম্যান্স, দলগুলোর আক্রমণ ও রক্ষণ শক্তি এবং পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণে ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের দলকে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় সবার ওপরে রেখেছে একটি গাণিতিক পূর্বাভাস, যেখানে ফ্রান্সের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
ফ্রান্সের পরেই রয়েছে স্পেন। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দলটির বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ২৩ দশমিক ২ শতাংশ। আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা রয়েছে তৃতীয় স্থানে, তাদের শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
এই তিন দলের পর কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। গ্যারেথ সাউথগেটের দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেমিফাইনালে ওঠার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে এই চার দলেরই।
রাউন্ড অব ১৬ শেষে শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছে ফ্রান্স। এর আগে এই তালিকার এক নম্বরে ছিল স্পেন। তবে বেলজিয়ামের বড় জয় পুরো সমীকরণে পরিবর্তন এনেছে। স্বাগতিক দলের বিপক্ষে বেলজিয়ামের ৪-১ গোলের জয়ের পর দলগুলোর আক্রমণ ও রক্ষণভাগের পরিসংখ্যানগত মানদণ্ডে পরিবর্তন আসে। এর ফলে স্পেনের সামনে সেমিফাইনালের পথে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
শিরোপার দৌড়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম। তবে তাদের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম, মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর রয়েছে নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড। দুই দলেরই বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ করে। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম সম্ভাবনা রয়েছে মরক্কোর, মাত্র ৫ শতাংশ।
কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো। এরপর শুক্রবার রাত ৮টায় মাঠে নামবে স্পেন ও বেলজিয়াম। শনিবার হবে শেষ দুই কোয়ার্টার ফাইনাল। রাত ১০টায় লড়বে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড, আর রাত ২টায় মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড।
এই সম্ভাবনার হিসাব তৈরি করেছে ‘গাতো মেস্ত্রে’ (Gato Mestre) নামের একটি বিশ্লেষণী দল। অর্থনীতিবিদ ব্রুনো ইমাইযুমির যৌথ পরিচালনায় দলটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের বাছাইপর্ব ও মূল পর্বের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিটি রাউন্ড শেষে দলগুলোর পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনার হিসাব পরিবর্তিত হচ্ছে।
ব্রুনো ইমাইযুমি এই গাণিতিক মডেল সম্পর্কে বলেন, ‘এটি মূলত কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচগুলো শুরু হওয়ার ঠিক আগের একটি গাণিতিক পরিসংখ্যান। বর্তমান মডেলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি দলের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার আনুমানিক সম্ভাবনা এখানে উঠে এসেছে। এটি কোনো নিশ্চিত বিষয় বা আমাদের দেওয়া স্থির কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং এটি একটি গাণিতিক সম্ভাবনা যা ম্যাচের ফলাফলের সাথে সাথে বদলে যায়।’
এই পূর্বাভাস তৈরিতে দলগুলোর আক্রমণ ও রক্ষণ শক্তির সমন্বিত মূল্যায়ন ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের সম্ভাব্য ফলাফল এবং পরবর্তী পর্বে ওঠার সুযোগ নির্ধারণে এই তথ্যগুলো কাজে লাগানো হয়েছে।
ইমাইযুমি আরও বলেন, ‘আমাদের এই মডেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে 'এক্সজি' বা এক্সপেক্টেড গোল (খেলোয়াড়দের পজিশন বা অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে গোল করার সম্ভাবনা)। এরপর ক্রমান্বয়ে রয়েছে ফিফা র্যাংকিং এবং ফুটবলারদের দলবদল সংক্রান্ত বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট ‘ট্রান্সফারমার্কেট’ থেকে নেওয়া খেলোয়াড়দের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে দলের শক্তির একটি আনুমানিক হিসাব। সবশেষে আমরা দলগুলোর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অতীত ইতিহাসকেও বিবেচনায় নিয়েছি। এই সমস্ত উপাদানগুলো একটি দলের বর্তমান শক্তি এবং বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।’
গাতো মেস্ত্রে দলের এই বিশ্লেষণে সাংবাদিক আর্থার স্যান্ডেস, দাভি বারোস, ফেলিপে তাভারেস, গুইলহার্মে ম্যানিয়াউডেট, গুস্তাভো ফিগুয়েইরেদো, লিয়ান্দ্রো সিলভা, লরাইন ভিয়েরা, রবার্তো মালেসন, রদ্রিগো ব্রেভেস ও ভালমির স্তোর্তির পাশাপাশি ডেটা সায়েন্টিস্ট ব্রুনো বেনিসিও, ভিতর পাতালানো এবং প্রোগ্রামার গুস্তাভো মাসেদো কাজ করেছেন।
রাউন্ড অব ১৬ শেষে হিসাবের পাল্লা ফ্রান্স, স্পেন ও আর্জেন্টিনার দিকেই ভারী। তবে বিশ্বকাপের শেষ লড়াইয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে—পরিসংখ্যান নয়।