ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরদুল্লভ খান আব্দুল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ © সংগৃহীত ও টিডিসি সম্পাদিত
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরদুল্লভ খান আব্দুল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, বেতন-ভাতা পরিশোধে অনিয়ম, আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী।
গত ২২ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রায় এক বছর ধরে আয়-ব্যয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব শিক্ষক-কর্মচারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
আবেদনকারীদের দাবি, একাধিকবার হিসাব চাওয়া হলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো হিসাব প্রকাশ করেননি। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। অনেকের প্রায় দুই বছরের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টিউশন ফি থেকে বণ্টনযোগ্য অর্থও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়নি।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাত থেকে আদায়কৃত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের কাছেই সংরক্ষণ করেছেন, যা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যালয়ের তিনটি বড় গাছ বিক্রি করা হয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়গুলোর সমাধানের চেষ্টা করেও ফল না পাওয়ায় তারা উপজেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছেন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
লিখিত আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র শিক্ষক মো. গোলাম ফারুক, মো. কবির উদ্দিন, শাহিনা বেগম, মো. বোরহান উদ্দিন হোসেন, মো. আলা উদ্দিন, সুফিয়া বেগম, মীরা রানী, মো. সিরাজুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মো. কবির হোসেন, অফিস সহকারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. তাজ উদ্দিন।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক কফিল উদ্দিন বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো আয়-ব্যয়ের হিসাব দেননি। বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও টিউশন ফি বাবদ প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজে নিজে খরচ করা হয়েছে। চার মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় দুই বছরের বেতন-ভাতা বাকি রয়েছে। আমরা এ অবস্থার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। তিনি প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখার বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিযোগে উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।