মার্টিনেজ © টিডিসি ফটো
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই পর্তুগালের দায়িত্ব নিয়েছিলেন রবার্তো মার্তিনেজ। কিন্তু শেষ ষোলোতেই স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পরই পর্তুগালের প্রধান কোচের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্প্যানিশ এই কোচ। একই সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে মার্তিনেজ বলেন, ‘পর্তুগালে আমি বিশ্বকাপ জিততে এসেছিলাম। সেটা হয়নি। এখন আর চালিয়ে যাওয়ার মানে হয় না। এখানেই আমার শেষ।’
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ম্যাচজুড়ে আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও পর্তুগালের রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পায়নি তারা। অন্যদিকে আক্রমণে খুব বেশি কার্যকর হতে পারেনি পর্তুগাল। ফলে পুরো ম্যাচজুড়েই চাপে ছিল দলটি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার ঠিক আগে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। ফেরান তোরেসের কাছ থেকে বল পেয়ে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনো জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। শেষ মুহূর্তের সেই গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং পর্তুগালের বিদায়।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক ধারাবাহিকতাও ধরে রাখল স্পেন। এবারের আসরে গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দে, উরুগুয়ে ও সৌদি আরব, এরপর নকআউটে অস্ট্রিয়া এবং শেষ ষোলোয় পর্তুগাল—কোনো দলই স্পেনের জালে বল পাঠাতে পারেনি। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচেও মরক্কোর বিপক্ষে ক্লিনশিট রেখেছিল স্প্যানিশরা, যদিও সেই ম্যাচে টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হয়েছিল।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচ এবং ১০ ঘণ্টা ৯ মিনিট ধরে কোনো গোল হজম করেনি স্পেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন রক্ষণাত্মক রেকর্ড আর কোনো দলের নেই।
স্পেন এখন কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর পর্তুগালের জন্য এই হার শুধু বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ই নয়, জাতীয় দলের ডাগআউটে রবার্তো মার্তিনেজের অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটাল।