ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ © গেটি ইমেজ
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাধারণত সম্ভাব্য একাদশ, কৌশল, প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ কিংবা প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে প্রশ্নোত্তর হয়ে থাকে। তবে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথের ক্ষেত্রে আলোচনার পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের আচরণও হয়ে ওঠে সংবাদ শিরোনাম। ঠিক তেমনই একটি বিষয় ‘হ্যান্ডশেক’ বা করমর্দন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোয় পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলির সংবাদ সম্মেলনের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। যেখানে সবকিছুকে ছাপিয়ে সাংবাদিকদের কৌতূহলের কেন্দ্র ছিল একটি প্রশ্ন, দুই দলের ক্রিকেটাররা কি এবার করমর্দন করবেন?
উত্তরে সূর্যকুমার সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলেননি। বরং রহস্য বজায় রেখে মজার ছলে বলেছিলেন, “২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া করুন, ভালো করে ঘুমান, আমরা আগামীকালই (১৫ ফেব্রুয়ারি) দেখব।”
মূলত গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ভারতীয় খেলোয়াড়দের হাত না মেলানোর ঘটনায় নেতৃত্বে ছিলেন সূর্যই। সেই ঘটনার পর নারী বিশ্বকাপ, অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এবং রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপেও ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে একই চিত্র দেখা গেছে। ফলে, কলম্বোয় এই ম্যাচকে ঘিরে বিষয়টি আবারও সামনে চলে আসে। যেখানে ফের একই কাণ্ড ঘটাল টিম ইন্ডিয়া।
হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে টসের সময় সূর্যকুমারকে উপস্থিত অন্যান্যদের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা গেলেও পাকিস্তান অধিনায়ক আঘার সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি ক্রিকেট বিশ্বে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সমালোচনার ঝড়ও ওঠেছে; অনেকেই এটিকে খেলাধুলার সৌজন্যবোধের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে এতসব বিতর্ক একপাশে রেখে ম্যাচের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখেনি দুই দলই। টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। কলম্বোর আর প্রেমাডাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৭টায় শুরু হয়েছে এই মর্যাদার লড়াই।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুটি পরিবর্তন এনেছে ভারত। আশ্বদীপ সিং ও সাঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে অভিষেক শর্মা ও কুলদীপ যাদব একাদশে সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছে ‘দ্য গ্রিন ম্যান’খ্যাত পাকিস্তান।
এর আগে, বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া অন্যায্য আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে চলমান বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। পরবর্তীতে অনেক অনুরোধ–উপরোধের পর পাকিস্তানকে ম্যাচ খেলতে রাজি করানো হয়। ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে এই ম্যাচ আয়োজনের জন্য পিসিবির প্রতি অনুরোধ জানায় বাংলাদেশও।