গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

২১ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি বৃদ্ধি, আপত্তি জানানো অভিভাবকদের দেখানো হলো ‘ওয়েটিং লিস্ট’

১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৪ PM , আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৭ PM
গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল

গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

রাজধানীর ইংরেজি মাধ্যম গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বার্ষিক টিউশন ফি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে প্রতিটি শ্রেণিতে ১০ শতাংশ হারে এই ফি বৃদ্ধি করা হলেও অভিভাবকরা বলছেন, তাদের কাঁধে ১৫ থেকে ২১ শতাংশ বর্ধিত ফি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্ধিত ফি পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছিলেন তারা। তবে নির্ধারিত সময়ে টিউশন ফি না দিলে শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল করার হুমকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থায় আজ বুধবার (১৫ জুলাই) টিউশন ফি জমাদানের শেষ দিনেও অন্তত ৫৫৬ অভিভাবক ৭০৪ জন শিক্ষার্থীর টিউশন ফি জমা দেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৬ জুলাই টিউশন ফি বৃদ্ধির নোটিশ দেয় গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। সাঁতারকুল ও উত্তরা উভয় ক্যাম্পাসের এই নোটিশে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ফি জমা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এসটিএস গ্রুপ কর্তৃক পরিচালিত। গ্রুপটির সঙ্গে ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের (বিআইআই) সংযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এই গ্রুপের অন্যতম শেয়ারহোল্ডার।

এদিকে বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যালয়ে নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৭-এর ১৯ বিধি অনুযায়ী, প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি বৃদ্ধি অনুমোদিত। এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২৫ মে হাইকোর্টের নির্দেশনায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ, অভিভাবক, শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদন, অডিট হিসাব প্রকাশ ইত্যাদি বিষয় নির্ধারিত হয়েছে। ওই আদেশে টিউশন ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সমন্বয়ে গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অভিভাবকরা বলছেন, গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল বিধিমালার অপব্যাখ্যার পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনাও লঙ্ঘন করেছে।

টিউশন ফি বৃদ্ধির হার
গত ৬ জুলাই এসটিএস গ্রুপের নোটিশ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সেশনে প্লে গ্রুপ ও নার্সারির শিক্ষার্থীদের ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪০০, কেজি-১ ও কেজি-২ শ্রেণির জন্য ২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৩৪০, গ্রেড ১ ও গ্রেড ২-এর শিক্ষার্থীদের জন্য ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ২৬০, গ্রেড ৩ ও গ্রেড ৪-এর জন্য ৩ লক্ষ ৯ হাজার ২৪০, গ্রেড ৫-এর জন্য ৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৮০, গ্রেড ৬ ও গ্রেড ৭-এর জন্য ৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৮০, গ্রেড ৮-এর জন্য ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ২০, গ্রেড ৯-এর জন্য ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৫৬০ ও গ্রেড ১০-এর জন্য ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৫৭০ এবং গ্রেড ১১ ও গ্রেড ১২-এর জন্য ৪ লক্ষ ১১ হাজার ৯০০ টাকা টিউশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ সেশনে এই টিউশন ফি-র তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে, গত বছর প্লে ও নার্সারি গ্রুপের জন্য ২ লক্ষ ৪১ হাজার ২৬৬, কেজি-১ ও কেজি-২ শ্রেণির জন্য ২ লক্ষ ৫১ হাজার ২১১, গ্রেড ১ ও গ্রেড ২-এর জন্য ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫৮৯, গ্রেড ৩ ও গ্রেড ৪-এর জন্য ২ লক্ষ ৮১ হাজার ১২৪, গ্রেড ৫-এর জন্য ৩ লক্ষ ৭ হাজার ৭৯২, গ্রেড ৬ ও গ্রেড ৭-এর জন্য ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৮১, গ্রেড ৮-এর জন্য ৩ লক্ষ ৫১ হাজার ৮৩১, গ্রেড ৯-এর জন্য ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৮ ও গ্রেড ১০-এর জন্য ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ৫৭ এবং গ্রেড ১১ ও গ্রেড ১২-এর জন্য ৩ লক্ষ ৯২ হাজার ২৭৪ টাকা টিউশন ফি নির্ধারিত ছিল।

দুই সেশনের টিউশন ফি-র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত সেশনের তুলনায় চলতি সেশনে প্লে থেকে গ্রেড ৮ পর্যন্ত একই শ্রেণিতে ১০ শতাংশ হারে টিউশন ফি বৃদ্ধি ফি পেয়েছে। গ্রেড ৯ ও গ্রেড ১০-এ এটি ৯.৮৭ ও ৯.৮৮ শতাংশ। আর গ্রেড ১১ ও গ্রেড ১২-তে এটি বৃদ্ধি পেয়েছে ১০.১০ শতাংশ হারে।

অভিভাবকরা কনসার্ন জানানোর পর গ্লেনরিচ কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনায় বসা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সোজা পথে না গিয়ে অভিভাবকদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে যে তাদের ওয়েটিং লিস্টে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে। এটি আলোচনার কোনো পদ্ধতি হতে পারে না— একজন অভিভাবক

তবে এক গ্রেড থেকে পরের গ্রেডে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে টিউশন ফি বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। হিসাব অনুযায়ী, প্লে থেকে কেজি-১ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে এবার গুণতে হচ্ছে ১৪.৫৪ শতাংশ বেশি টিউশন ফি। একইভাবে কেজি থেকে গ্রেড ১-এ ১৬.৭৪, গ্রেড ২ থেকে গ্রেড ৩-এ ১৬, গ্রেড ৪ থেকে গ্রেড ৫-এ ২০.৪৪, গ্রেড ৫ থেকে গ্রেড ৬-এ ১৩.৬১, গ্রেড ৭ থেকে গ্রেড ৮-এ ২১.৭৫, গ্রেড ৮ থেকে গ্রেড ৯-এ ১১.০১, গ্রেড ১০ থেকে গ্রেড ১১-তে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে গুণতে হচ্ছে ২১.৪ শতাংশ বর্ধিত টিউশন ফি। গ্রেড ১ থেকে গ্রেড ২, গ্রেড ৩ থেকে গ্রেড ৪ এবং গ্রেড ৬ থেকে গ্রেড ৭-এ উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং কেবলমাত্র গ্রেড ৯ থেকে গ্রেড ১০-এ উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে ফি বেড়েছে ৯.৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন: প্রথম কেমব্রিজ প্রিন্সিপালস মিট: এ‌আইয়ে বিনিয়োগ ও শিক্ষায় ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা

তবে শুধু গত সেশনই নয়, বিগত ৫টি সেশনেই এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে ফি বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। এসটিএস গ্রুপের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২১-২২ সেশনের টিউশন ফি যাচাই করে দেখা গেছে, ওই বছর নার্সারিতে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪২০, এফএস-১ শ্রেণিতে ১ লক্ষ ৭০ হাজার ৯৬০, এফএস-২ ও সিএফ শ্রেণিতে ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ১০, গ্রেড ১ ও গ্রেড ২-এ ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৪৪০, গ্রেড ৩ ও গ্রেড ৪-এ ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫৫০, গ্রেড ৫-এ ২ লক্ষ ১৪ হাজার ১০০, গ্রেড ৬ ও গ্রেড ৭-এ ২ লক্ষ ২১ হাজার ১২০, গ্রেড ৮ ও গ্রেড ৯-এ ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৩০, গ্রেড ১০-এ ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭২৭ এবং গ্রেড ১১ ও গ্রেড ১২-তে শিক্ষার্থীরা গুণেছিলেন ২ লক্ষ ৮৮ হাজার ৫৫৪ টাকা।

তথ্য বলছে, ২০২১-২২ সেশন থেকে ২০২৬-২৭ সেশনে প্রতিষ্ঠানটির ৬ সেশনে অধিকাংশ গ্রেডে প্রায় ৫৮ থেকে ৬০ শতাংশ টিউশন ফি বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি নার্সারিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৭০.৭৬ শতাংশ। আর টাকার অঙ্কে দশম গ্রেডে বেড়েছে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৪৩ টাকা। তবে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে এর হার আরও অনেক বেশি। হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ সেশনে নার্সারিতে ভর্তি হওয়া শিশুটি বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। ভর্তি হওয়ার সময় তার টিউশন ফি ছিল ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪২০ টাকা। আর এখন ৫ম শ্রেণিতে তাকে গুণতে হচ্ছে ৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৮০ টাকা, যা ভর্তি বছরের তুলনায় ১১৮ শতাংশ বেশি।

উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা পেলেন ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি’
গত ৬ জুলাই নোটিশ প্রকাশের পর বর্ধিত ফি নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা ১১ জুলাই এটি পুনর্বিবেচনার জন্য পিটিশন দাখিল করেন। এই আবেদন এসটিএস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মানাস সিংয়ের কাছে পাঠানো হয়। এতে ৭০৪ জন শিক্ষার্থীর ৫৫৬ জন অভিভাবক সই করেন।

তাদের আবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থী ভর্তির সময় তাদের জানানো হয়েছিল যে ২.৪ থেকে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক টিউশন ফি বর্ধিত করা হবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারগুলো তাদের আর্থিক পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। কিন্তু এখন এই সংখ্যা বার্ষিক ১৫ থেকে ২১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা আর্থিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। অভিভাবকরা যুক্তিসঙ্গত ন্যায্য ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে নন জানিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলা যে কোনো বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ, যুক্তিসঙ্গত ও পরামর্শমূলকভাবে গ্রহণ করা উচিত।

চিঠিতে এসটিএস গ্রুপের কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো— প্রস্তাবিত টিউশন ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও সাময়িক স্থগিত করা, ‍অভিভাবক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন এবং ১৫ জুলাইয়ের আগে অভিভাবকদের উদ্বেগের জবাব দেওয়া।

এই চিঠির পর গত ১৩ জুলাই একটি লিখিত জবাবে টিউশন ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেন এসটিএস গ্রুপের সিইও মানাস সিং। এতে তিনি নিজেদের ফি বৃদ্ধির পক্ষে অপব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ‘ওয়েটিং লিস্ট’-এ বহু ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অপেক্ষমান থাকার তথ্য জানিয়ে নির্ধারিত সময়ে ফি আদায়ের ‘প্রচ্ছন্ন হুমকি’ দেন বলেও অভিযোগ অভিভাবকদের।

আরও পড়ুন: দেশে নিবন্ধিত ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও কলেজের সংখ্যা ১৪৭টি

অভিভাবকদের পাঠানো ফিরতি মেইলটিতে টিউশন ফি বৃদ্ধির পেছনে স্কুলের পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন মানাস সিং। তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রেণির বার্ষিক ফি ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া স্কুলের পরিচালন ব্যয় এখন ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্কুল নিজে বহন করছে বলেও উল্লেখ করেছেন মানাস সিং।

অভিভাবকদের ১৫ থেকে ২১ শতাংশ টিউশন ফি বৃদ্ধির তথ্য প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, একই শ্রেণিতে বার্ষিক ‍টিউশন ফি ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি করা হয়নি। ১৫ থেকে ২১ শতাংশ বেশি মনে হচ্ছে তখনই, যখন একজন শিক্ষার্থী পরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হচ্ছে। আর পরবর্তী শ্রেণির ফি সব সময়ই বেশি থাকে, যা স্কুলের অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করছে। এ ছাড়া ভর্তির সময় ২.৪ থেকে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক টিউশন ফি বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

টিউশন ফি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে মানাসি সিং বলেন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি, শিক্ষা উপকরণের খরচ এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও ইউটিলিটি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বিদ্যালয়টির পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রোবোটিক্স, স্টেম, র‌য়্যাল স্কুল অব মিউজিক (লন্ডন), ম্যাথবাডি, অ্যালায়েন্স ফ্রঁসেজ ও সিমুলেশন-ভিত্তিক শিক্ষা— এসব সংযুক্তির জন্য বার্ষিক খরচ বাড়ে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও কর্মীদের বেতন, পেশাগত উন্নয়ন, পরিচালন ব্যয়, ক্যাম্পাস রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও নতুন শিক্ষামূলক উদ্যোগে ব্যয় ১০ শতাংশের অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

অভিভাবকরা পিটিশন জানালে এসটিএস গ্রুপের সিইও যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা পুরোপুরি অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। স্কুলে জ্বালানির কী কাজ? আমরা তো ট্রান্সপোর্টের জন্য আলাদা ফি বহন করি। শিক্ষা উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধির কথাও তিনি বলেছেন, অথচ সেটাও বহন করি আমরা। শুধু শুধু নিজেদের কথায় অনড় থাকতে এ ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে— একজন অভিভাবক

একইভাবে দেশের বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব থেকে স্কুলটি মুক্ত নয় বলেও দাবি করা হয়েছে। তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমানে নিয়মিত শিক্ষা উপকরণের খরচ ৯%+ মুদ্রাস্ফীতির সাথে বেড়েছে। এ ছাড়া আইটি পণ্য ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, ফুয়েল বা ডিজেল ১৫ শতাংশ, এলপিজি ১৭ শতাংশ, বিদ্যুৎ ১৮.৪ শতাংশ এবং অকটেনের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৯ শতাংশ। এ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যয় ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে টিউশন ফি প্রদানের ‘হুমকি’ দিয়ে বলা হয়, বেশিরভাগ গ্রেডে আসন পূর্ণ এবং অপেক্ষমান তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত করা জরুরি। নির্ধারিত সময়ের পর অনিশ্চিত আসন অপেক্ষমান তালিকার শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে।

ফি কমানোর দাবিতে অনড় অভিভাবকরা
গ্লেনরিচ কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের পর গত ১৩ জুলাই রাতেই মানাস সিংকে পুনরায় একটি চিঠি দিয়েছেন অভিভাবকরা। এতে বলা হয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির হার অভিভাবকদের ওপরও পড়েছে। ফলে যথাযথ আলোচনা ও আগাম নোটিশ ছাড়া হঠাৎ করে এই টিউশন ফি বৃদ্ধি যৌক্তিক নয়।

এতে বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যালয়ে নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৭ অনুযায়ী টিউশন ফি বৃদ্ধি হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালন করা হয়নি বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই চিঠিতে নতুন করে ৫টি দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা। এগুলো হলো— অভিভাবক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথ আলোচনা আহ্বান, বিদ্যমান পেমেন্টের সময়সীমা বাড়ানো, বিতর্কিত সংশোধিত ফি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করার কারণে শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল বা ক্ষতিগ্রস্ত না করা, বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব ফি, জরিমানা বা অতিরিক্ত চার্জ আরোপ না করা এবং পরামর্শের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফি নির্ধারণের পর তা পর্যাপ্ত সময়ের মধ্যে জানিয়ে নতুন সময়সূচি দেওয়া।

অভিভাবকরা বলছেন, কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই এসটিএস গ্রুপ টিউশন ফি বাড়িয়েছে। মূলত আদালতের আদেশে পুনঃভর্তি ফি বাতিল হওয়ার পর থেকে নতুন কৌশল নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা অভিভাবকদের পকেট কাটতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ ছাড়া আজ বুধবার টিউশন ফি জমাদানের শেষ দিনেও অন্তত ৫৫৬ জন অভিভাবক তাদের ৭০৪ জন শিক্ষার্থীর টিউশন ফি জমা দেননি বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন অভিভাবকরা। যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত টিউশন ফি প্রদানে বিরত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন: খেলার মাঠ নেই ৭২ শতাংশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভাবক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অভিভাবকরা কনসার্ন জানানোর পর গ্লেনরিচ কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনায় বসা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সোজা পথে না গিয়ে অভিভাবকদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে যে তাদের ওয়েটিং লিস্টে অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে। এটি আলোচনার কোনো পদ্ধতি হতে পারে না।

অপর এক অভিভাবক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অভিভাবকরা পিটিশন জানালে এসটিএস গ্রুপের সিইও যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা পুরোপুরি অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর। স্কুলে জ্বালানির কী কাজ? আমরা তো ট্রান্সপোর্টের জন্য আলাদা ফি বহন করি। শিক্ষা উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধির কথাও তিনি বলেছেন, অথচ সেটাও বহন করি আমরা। শুধু শুধু নিজেদের কথায় অনড় থাকতে এ ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে এসটিএস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মানাস সিংকে গত ১৩ জুলাই ই-মেইলে প্রশ্ন করা হলে তিনি সময় চান। তবে ১৪ জুলাই আবারও ই-মেইলে বার্তা পাঠানো হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস মেসির
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
মেসি-আর্জেন্টিনার সামনে নতুন ইতিহাসের হাতছানি
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
ইংল্যান্ডকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
মার্তিনেজের গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত গোলে সমতায় আর্জেন্টিনা
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস মেসির
  • ১৬ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence