যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় © ফাইল ছবি
করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ১৬-২২% লোকের লং কোভিড হতে পারে বলে দাবি করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একদল গবেষক। গবেষণায় দেখা গেছে ৪০ বছরের নিচের বয়সীরা অর্থাৎ দেশের কর্মক্ষম মানুষ লং কোভিড দ্বারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে উল্লেখ করে কিভাবে লং কোভিড মোকাবেলা করা যায় সেটি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এখনি ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষক দলের প্রধান ও যবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন।
সম্প্রতি লং কোভিড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে গবেষণা করছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) গবেষক দলটি।
যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কোভিড হওয়ার পর প্রায় ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত আক্রান্তের শরীরে কোভিড পরবর্তী লক্ষণগুলো থাকতে পারে। এর পরবর্তীতেও লক্ষণ থাকলে সেটাকে আমরা পোস্ট কোভিড পর্যায় বলি। সেটা ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। কিন্তু ১২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ব্যাথা হওয়া, হঠাৎ কোনকিছু ভুলে যাওয়া, দুই অস্থির সংযোগস্থলে ব্যথা, মাথা ব্যাথা এমন লক্ষনগুলো থাকেলে সেটাকে লং কোভিড বলে ধরে নিতে হবে। এবং বাংলাদেশের মানুষ লং কোভিডে আক্রান্ত হলে তা ২২-৩২ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, যাদের বয়স ৪০ বছরের নিচে তারাই লং কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার এদের মধ্যে মহিলাদের লং কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। এটি যেহেতু কর্মক্ষম মানুষের উপর বেশি আঘাত হানবে। সুতরাং কিভাবে লং কোভিড মোকাবেলা করা যায় সেটি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এখনি ভাবতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলকে টার্গেট করে গবেষণাটি করেছি। এটি যদি সারা বাংলাদেশ ব্যাপী করতে পারি তাহলে বাংলাদেশে লং কোভিড নিয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যাবে। করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার সাথে সাথে আমাদের এটাও দেখা দরকার কতটুকু প্রতিরোধক তৈরি হয়েছে। তা না হলে কিন্তু কিছু ভুল ও থাকবে। সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে গেছে, সবাই সুস্থ হয়ে গেছে, এ ধরণের ধারণা কিন্তু মারাত্মক হয়ে দাঁড়াতে পারে।