রাবিপ্রবি © টিডিসি ফটো
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে বর্তমানে এক প্রাণবন্ত ক্লাব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে এসব ক্লাব এখন অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে বেশ কিছু ক্লাব সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বছরজুড়ে সেমিনার, কর্মশালা, প্রতিযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ করে তুলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এসব সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করে আসছে।
শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে বিভিন্ন ক্লাবের অবদান নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা যায় এক ইতিবাচক চিত্র। ম্যানেজমেন্ট বিজনেস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বাদশা সোলেমান জানান, তাদের ক্লাব শিক্ষার্থীদের পেশাগত ও সৃজনশীল উন্নয়নে কাজ করছে। প্রথমবারের মতো পিঠা উৎসব, ‘ফ্রম ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার’ শীর্ষক সেমিনার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর এবং ম্যানেজমেন্ট ফেস্ট আয়োজনের মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে, রাবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহেদুল মারুফ বলেন, যুক্তি ও জ্ঞান চর্চার বলিষ্ঠ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে তাদের সংগঠন। এটি শিক্ষার্থীদের কথা বলার দক্ষতা ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হচ্ছে। গত এক বছরে এই ক্লাবের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয় দুটি ট্রফি জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। প্রশাসনের আন্তরিকতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে রাবিপ্রবি ক্যারিয়ার ক্লাব। ক্লাবের সভাপতি শাহরিয়ার রাব্বি তন্ময় জানান, সিভি রাইটিং, ক্যানভা ডিজাইনিং এবং প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিংয়ের ওপর বিভিন্ন সেশন তারা পরিচালনা করেছেন। এছাড়া ইউএনডিপি’র সহযোগিতায় ইংরেজি কোর্স ও মেন্টরশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ক্লাবটি ভূমিকা রাখছে।
আবার সৃজনশীল দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান অর্জনে পিছিয়ে নেই ফটোগ্রাফি ক্লাবও। ক্লাবের আহ্বায়ক মোঃ ইলিয়াস বলেন, ফটোগ্রাফির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ইভেন্ট কভার করার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও প্রফেশনাল স্কিল বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের মতে, গত এক বছরে ক্যাম্পাসে সহশিক্ষা কার্যক্রমে যে গতি এসেছে, তা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ ও দলগত কাজের সক্ষমতাকে শক্তিশালী করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্লাব সংস্কৃতির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রাবিপ্রবি থেকে দক্ষ, সৃজনশীল ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন এক নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা আগামীতে দেশ ও সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।