© ফাইল ফটো
আবাসিক হল বন্ধ রেখে গত ১৭ জানুয়ারি ১ম দফায় স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু করেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। আবারও সেই একই সিদ্ধান্তে অটল থেকে প্রথম তিন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। তবে আবাসন ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষার পরীক্ষায় হল খোলার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১৬৩তম সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে একাডেমিক কাউন্সিলের একাধিক সদস্য নিশ্চিত করেছেন।
একাডেমিক কাউন্সিলের একাধিক সদস্য সূত্রে জানা যায়, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রথম তিন (১ম, ২য় এবং ৩য়) বর্ষের পরীক্ষা শুরু করে আগামী এপ্রিলের ২৪ তারিখের ভেতর শেষ করার ব্যাপারে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আবাসিক হল খোলা রাখার ব্যাপারে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আবাসিক হল না খুলেই এ পরীক্ষা শুরু করায় আবাসন সংকটসহ নানাবিধ অসুবিধায় পড়তে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। হল খোলা না থাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচিতদের মেসে অবস্থান নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
এদিকে নতুন তিন বর্ষের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শুরুর আশঙ্কা করে ইতোমধ্যে সিলেটে ফিরতে শুরু করেছে। ফলে মেসে অবস্থানরত সেসব শিক্ষার্থীরা নতুন করে আবারও আবাসন সংকটে পড়ছে।
স্বপন কর্মকার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার সময় হল না খোলায় বাধ্য হয়ে আমি এক জুনিয়রের মেসে থেকে পরীক্ষা দিচ্ছি। যেকোনো সময় যদি সে চলে আসে তাহলে তার সিট ছেড়ে দিতে হবে। বন্ধু-বান্ধবদের অনেকের মেসে খোঁজ নিয়েছি যেনো কোনোরকমে থেকে পরীক্ষা শেষ করতে পারি। কারো মেসেই এই সময়ে জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।’
১ম দফায় স্নাতক চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পর্বের পরীক্ষা শুরুর পূর্বে মেয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসনের দায়িত্ব স্ব-বিভাগের প্রধানদেরকে দেয়া হলেও ২য় দফায় পরীক্ষার সময় নির্ধারণের বেলায় তাদের আবাসনের ব্যাপারেও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি একাডেমিক কাউন্সিলের সভায়। ফলে মেয়ে শিক্ষার্থীরাও এবার আবাসনের সংকটের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা মারিয়া বলেন, ‘সিনিয়রদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে দেখে আমিও বুঝতে পারছিলাম আমাদেরও পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে ভেবেছিলাম আমাদের পরীক্ষার সময় হল খুলে দেয়া হবে। আমরা হলে থেকেই পরীক্ষা দিতে পারবো। সিলেটে আমার কোন আত্মীয় নাই যে, কারো বাসায় থেকে নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিবো। হল না খুলে পরীক্ষা নিলে সিনিয়রদের মতো আমাদেরও নিরাপদ জায়গায় থেকে পরীক্ষা দেয়ার কথা ভাবতে হবে।’
মারিয়া আরো বলেন, ‘সিনিয়রদের (ছাত্রী) পরীক্ষার আগে তাদের আবাসনের দায়িত্ব বিভাগীয় প্রধানদেরকে দেওয়া হলেও আমি অনেক আপুদের সাথে কথা বলে দেখেছি তারা বিভাগ থেকে কোনরকম সহযোগীতা পান নি। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শুরু করে এপ্রিলের ২৪ তারিখের ভেতরে সকল পরীক্ষা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ এর পরে ঈদের ছুটির জন্য ক্যাম্পাস আবার বন্ধ হয়ে যাবে।’
হল খোলার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে উপাচার্য বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত ব্যতীত আমরা হল খুলে দিতে পারি না। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। আমরা সে পর্যন্ত দেখে তার পরে একটা সিদ্ধান্ত নেবো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আশা করি সরকার খুব তাড়াতাড়ি হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত দিবে। তখন আমরা হল খুলে দেবো।’