ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) নির্বাচনে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন বুয়েটের এক শিক্ষক। আইইবির নির্বাচনে প্রথম ভোট দেয়ার অভিজ্ঞতাকে লজ্জাজনক বলেও অবহিত করেন কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওইদিনে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আইইবির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গ্রুপে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। এর শিরোনাম দেন ‘আইইবি নির্বাচনে ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা: আইইবি-ঢাকা লজ্জা’।
সেখানে বুয়েট শিক্ষক লিখেছেন, বেশ কিছুদিন ধরে প্রার্থীদের প্রচারণা, প্রার্থীদের এসএমএস'র ফ্লোতে ভেসে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল। আমার বিভাগের এক সহকর্মী আবার নির্বাচন করছে। তাই ভোট দিতে যাওয়া। মূল ঘটনা প্রবাহ নিম্নরূপ:
১। বেলা ৩টার সময় আইবিতে পৌঁছে ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার নিতে নির্ধারিত স্থানে যাই। ব্যালট পেপার দিতে বললে, ওরা জানায়, "ব্যালট নাই, শেষ। আমার জিজ্ঞাসা, আমি ভোটার, আমার ব্যালট কোথায়? জবাব, নির্বাচন কমিশন থেকে পরে হয়তো আরো ব্যালট আসবে।
২। অপেক্ষা করলাম, পুলিশদেড় বুঝিয়ে গেলাম নির্বাচন কমিশন এর কক্ষে। নিরাপত্তাকর্মী জানালো, ওনারা দুপুরের খাবার খাচ্ছেন, এখন দেখা করা যাবে না। আমার ভিসিটিং কার্ড দিলাম, দেখাতে, বললাম আমি কথা বলবো। বেশ কিছুক্ষন পর নির্বাচন কমিশন কক্ষে ঢুকে, কথা বলতে চাইলাম। বললাম, আমাকে ব্যালট দেয়া হচ্ছেনা কেন? কেউ জবাব দিচ্ছেনা। একজন আরেকজনকে দেখিয়ে দেয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আড়াল হয়ে যায়। আমার পরিচয় দেয়ার পর, সে আরেকজন কে বলে কাউন্টারে যেয়ে দেখে আসার জন্য। আবার অপেক্ষা, একজন কমিশনার আস্তে আস্তে যেয়ে ব্যালট কাউন্টার পরিদর্শন করে।
৩। আমাকে ঘুরাচ্ছে, কিছু কথা বলছেন না। অবশেষে নির্বাচন কমিশন কক্ষে নিয়ে একটি ব্যালট প্রদান করে।
৪। আমি চেক করে দেখি, একটা স্বাক্ষর মিসিং। আবার কমিশনের কে জানালাম। বাধ্য হয়ে একজন স্টাফকে সে বললো স্বাক্ষর করে দিতে।
৫। আমি ভোট প্রদান করে এখন ব্যালট জমা দেয়ার পালা। নির্ধারিত জমা-বাক্স কাছাকাছি ঘুরছি, কিন্তু চোখে দেখতে পাচ্ছি না। খুঁজে বের করে কয়েকটি পেপার জমা দিলাম।
৬। আমার ডিভিশন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) এর জমা-বাক্স খুব কষ্ট করে খুঁজে পেলাম। ব্যালট জমা দেয়ার সময়, সেচ্ছাসেবক হিসেবে একজন আমার কাছ থেকে ব্যালট হটাৎ নিয়ে দেখে ফেলে। এর পর প্রায় জোর করে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। কোনোভাবেই তা উদ্ধার করতে পারলাম না। আমি ওদের ছবি তুলতে চাইলে, ওরা সবাই বাধা দেয়। ছবি তুলতে পারলাম না।
৭। আবার ছুটে গেলাম, নির্বাচন কমিশন কক্ষে। জানালাম। একজন কমিশনার আমার সাথে এসে, জানতে চাইলো, কে বা কারা ব্যালট নিয়ে গেছে। বলে কেউ তো এখন নেই, কি করবো এখন?
আইবিতে নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়া, এই আমার প্রথম। অনেকেই ব্যালট পাইনি। যারা পেয়েছে, তাদের অনেকেই জমা দিতে পারেনি।
এই নির্বাচন কিসের জন্য আইইবি? লজ্জা!
এদিকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নেতারা বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর দুপুর ২টার দিকে ভোট বর্জন করেন ওই পরিষদের নেতারা। তারা ভোট বর্জন করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশ করেন।