সিজিপিএ নয়, বরং দক্ষতাই নির্ধারণ করে সফলতা

মশিউর রহমান

মশিউর রহমান © টিডিসি ফটো

পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং দক্ষতাই যে সফলতার মূলমন্ত্র তার একটি অনন্য উদাহরণ মশিউর রহমান। গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ (সিএসই) থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে তিনি এখন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রযুক্তিভিত্তিক কোম্পানি গ্র্যাবে।

বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করা মশিউরের ছোটো থেকেই আগ্রহ ছিলো বিজ্ঞানের প্রতি। খেলনা নিয়ে খেলার থেকে খেলনা ভেঙে নতুনভাবে গড়ার চেষ্টাই ছিলো তার অধিক পছন্দের। আর এভাবেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন ইলেকট্রনিকস এন্ড ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ার। কিন্তু ভাগ্য তার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলো অন্যকিছু। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় তিনি সুযোগ পান কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। প্রথমে ভেবেছিলেন মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পরবর্তীতে ইইই বিভাগে ভর্তি হবেন। কিন্তু কিছুদিন সিএসই বিভাগে ক্লাস করেই কম্পিউটার সায়েন্সের মাঝেই তার স্বপ্ন পূরণের পথ খুঁজে পান।

একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি শুরু করেন প্রোগ্রামিং। নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে থাকেন বিভিন্ন প্রোগ্রামিং প্রতিযোগীতায়। আর এসকল প্রতিযোগীতার মাধ্যমেই তিনি একাডেমিকের পাশাপাশি প্রায়োগিক বিষয়েও দক্ষ হয়ে ওঠেন। তবে মোটেই সহজ ছিলো না তার এই যাত্রাপথ। বেশিরভাগ প্রোগ্রামিং প্রতিযোগীতাই ছিলো ঢাকা কেন্দ্রিক। মশিউরের জন্য এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ একদিকে যেমন ছিলে ব্যয়বহুল অপরদিকে ক্লাস-পরীক্ষার সাথেও এসকল প্রতিযোগীতার সময়সূচী মেলানো ছিলো কষ্টসাধ্য।

পাশাপাশি এসকল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করতে হতো টিম হিসেবে। কিন্তু দু’একজন ব্যতীত বেশিরভাগ সহপাঠীরাই ব্যস্ত ছিলো সিজিপিএ লাভের চেষ্টায়। তাদের মতে প্রোগ্রামিং কনটেস্ট কেবলই সময়ের অপচয়। শুধুমাত্র সহপাঠীরা নয় আশেপাশের অনেকেই পরামর্শ দিতো এসকল প্রতিযোগীতা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র একাডেমিক পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে। এমনকি এই পরামর্শদাতাদের তালিকায় ছিলো বেশ কয়েকজন শিক্ষকও।

তবে এসকল বাধায় থেমে যাননি মশিউর। দেশের সেরা কন্টেস্ট প্রোগ্রামারদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকটা রবীন্দ্রনাথের একলা চলো নীতিতেই এগিয়ে গিয়েছেন আর অবশেষে পেয়েছেন সাফল্যের দেখাও।

বশেমুরবিপ্রবির এই প্রাক্তন শিক্ষার্থীর গ্রাব যাত্রা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, স্বপ্নপূরণের যাত্রা শুরু হয় মূলত ‘এনোসিস সল্যুশন’ কোম্পানির মাধ্যমে। গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে কর্মজীবনের শুরুটা এখান থেকেই। একাডেমিক ফলাফল কিংবা পুঁথিগত বিদ্যা নয়, মূলত প্রোগ্রামিং এ আমার দক্ষতার উপর নির্ভর করেই আমাকে নিয়োগ দিয়েছিলো তারা।

তিনি বলেন, নিজ চেষ্টা এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামিং কনটেস্টের মাধ্যমে প্রোগ্রামিংয়ের যে জ্ঞান অর্জন করেছিলাম এখানে কাজ করার মাধ্যমে তা আরো সমৃদ্ধ হয়। আর এই দক্ষতার উপর ভিত্তি করেই মূলত গ্রাবের সাত ধাপের নিয়োগ পরীক্ষা সাফল্যের সাথে অতিক্রম করতে সফল হই। যেখানে এই নিয়োগ পরীক্ষায় সাফল্যের হার খুবই ক্ষীণ।

বর্তমানে গ্র্যাবের প্রধান কার্যালয় সিঙ্গাপুর শাখায় কর্মরত এই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আরো জানান, সিজিপিএ নয় দক্ষতাই নির্ধারণ করে সফলতা। বিশ্বসেরা কোম্পানিগুলো পুঁথিগত বিদ্যা কিংবা সিজিপিএর তুলনায় প্রায়োগিক দক্ষতার উপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করে থাকেন। তাই বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতি তার পরামর্শ সিজিপিএর পাশাপাশি প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জনের প্রতি গুরুত্বারোপের। এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর প্রতি তার আহ্বান শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কারিকুলামের বাইরেও বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিসে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় সুযোগ ও উৎসাহ প্রদানের।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মশিউর জানান, তার কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য নয় তিনি শুধুমাত্র নিজেকে যতটা সম্ভব দক্ষ করে তুলতে চান। সেই সাথে যেই প্রতিষ্ঠানেই কাজ করেননা কেনো সততা, নিষ্ঠা ও সফলতার সাথে কাজ করতে চান।

সফলতার জন্য যে তথাকথিত সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হওয়া জরুরি নয় সেটিও আরো একবার প্রমাণ করলেন মশিউর রহমান। তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন বাংলাদেশের সদ্য প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যেটি ছিলনা সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত গুটিকয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়। কিন্তু একারণে থেমে থাকেনি সাফল্য অর্জন। বরং মশিউরের কারণেই এনোসিস সল্যুশন, গ্র্যাবের মতো কোম্পানিগুলোর নিকট বশেমুরবিপ্রবি এখন পরিচিত একটি নাম।

মশিউর রহমানের মতে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য মেধাবী এবং দক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে। গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে এসকল শিক্ষার্থীরাও তৈরি করবে অজস্র সফলতার গল্প এবং বশেমুরবিপ্রবি পরিচিত হবে দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এমনটাই প্রত্যাশা তার।

মাটিতে মিশতে চায় না সিগারেটের ফিল্টার, ১০ বছর পরও ছড়ায় ‘বিষ…
  • ২০ মার্চ ২০২৬
ঈদে মোটরসাইকেল উচ্ছ্বাস, সচেতনতা হারিয়ে ছুটছে গতি
  • ২০ মার্চ ২০২৬
‎ডাকসু নেতা অপুর উদ্যোগে বাগেরহাটে ঈদ সামগ্রী বিতরণ
  • ২০ মার্চ ২০২৬
ইসরায়েলের মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
  • ২০ মার্চ ২০২৬
ঈদ নিয়ে তরুণদের ভাবনা, আনন্দের আসল অর্থ কোথায়?
  • ২০ মার্চ ২০২৬
দেশের বাজারে আজ কত টাকা ভরিতে বিক্রি হচ্ছে সোনা
  • ২০ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence