সময়ের আগেই অনার্স শেষ করে নজির গড়ল হাবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ

০৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৮ PM , আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৮ PM
হাবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

হাবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। © ফাইল ফটো

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)-এর বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২১ ব্যাচ নির্ধারিত চার বছরের আগেই অনার্স সম্পন্ন করে ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে এক অনন্য একাডেমিক নজির স্থাপন করেছে। অফলাইন ক্লাস শুরুর তারিখ থেকে হিসাব করলে মাত্র ৩ বছর ১১ মাস ২২ দিনের মধ্যেই ব্যাচটির ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৬ মার্চ পদার্থবিজ্ঞান ২১ ব্যাচের অফলাইন ক্লাস শুরু হয়। চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের (৪-২) তত্ত্বীয় চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ হয় ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর এবং ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। ফলে অফলাইন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত সময় দাঁড়ায় ৩ বছর ১১ মাস ২২ দিন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগটি ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে বিভাগটির ১১তম ব্যাচ চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত ৭টি ব্যাচ অনার্স এবং ৫টি ব্যাচ মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। বিভাগের অনার্স ডিগ্রির নাম বি.এসসি (অনার্স) ইন ফিজিক্স। বর্তমানে বিভাগে ৯ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন, যার মধ্যে ২ জন শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন। ২১ ব্যাচে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৬১ জন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার অয়ন বলেন, “৩ বছর ১১ মাস ২২ দিনের মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশসহ গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও সকল শিক্ষকের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং আমাদের ব্যাচের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।”

একই ব্যাচের শিক্ষার্থী শাম্মী আক্তার শেফা বলেন, “সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ডিন প্রফেসর ড. মমিনুল ইসলাম স্যার শুরু থেকেই আমাদের সেশন নির্ধারিত সময়ে শেষ করার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। দায়িত্বগ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনার্স সম্পন্ন করার কথা বলেছিলেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। সময়মতো অনার্স সম্পন্ন করায় আমরা ৫০তম বিসিএসসহ বিভিন্ন বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।”

শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান রাকিব বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে পারা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। ভাইস-চ্যান্সেলর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডিন স্যার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং সকল শিক্ষকের একাডেমিক সহায়তা ও নেতৃত্বের কারণেই আমরা এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনেক বিভাগে এখনো চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস বা পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২১ ব্যাচের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনার্স সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের কাছে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান ডিন ড. মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এ অগ্রগতি অর্জন করা যেত না। আমরা ক্লাস ও পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। করোনাকালীন দীর্ঘ বিরতির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত কর্মদিবসের পাশাপাশি শুক্র ও শনিবারও অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হয়েছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে বিভাগ থেকে কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সেশনজট নিরসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সেই লক্ষ্যেই সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রেখে বিভাগকে সময়ানুবর্তী ও সেশনজটমুক্ত রাখার প্রচেষ্টা চলমান থাকবে।”

শিক্ষকের কাছে লাখ টাকা চাঁদা দাবি ছাত্রদলের দুই নেতার, অতপর…
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধের নামে আ.লীগকে পুনর্বাসন করা যাবে না: নাহিদ ইসল…
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
ফাইনালের আগে আলোচনায় ভারতের ‘কুসংস্কার’
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
চাঁদা না দেওয়ায় যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
ল্যাটিন আমেরিকায় চীনকে ঠেকাতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র 
  • ০৭ মার্চ ২০২৬
নাটোরে বাঁশঝাড়ের নিচ থেকে ১০ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার
  • ০৭ মার্চ ২০২৬