পাঞ্জেগানা মসজিদের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন উপাচার্য ড. হোসেন উদ্দিন শেখর © টিডিসি
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) নতুন একটি পাঞ্জেগানা মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশাসনিক ভবন-সংলগ্ন এলাকায় মসজিদ নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদটি নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যে কিছু শিক্ষার্থীকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়।
কতিপয় শিক্ষার্থীর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ না করেই এই মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা উল্লেখ করেন, গোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যেই দুটি মসজিদ রয়েছে। এমন অবস্থায় তৃতীয় একটি মসজিদের পেছনে অর্থ ব্যয় না করে সেই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয় করার প্রস্তাব দেন তারা।
এ বিষয়ে ওঠা অভিযোগ ও বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন যে মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে, তার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখানে কেবল জায়গা প্রদান করছে, অর্থনৈতিক কোনো ব্যয় আমাদের নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন থেকে পূর্বে নির্মিত দুটি মসজিদের দূরত্ব তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক মুসল্লীর নিয়মিত নামাজ আদায়ে অসুবিধা হয়। সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই নতুন এই মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
উপাচার্য জানান, নতুন মসজিদটিতে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথকভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে, যা আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থাপনার অংশ।
মাস্টারপ্ল্যান-সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘মসজিদ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যানের সম্পূর্ণ বর্হিভূত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেছেন। ওই স্থানে অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেই। সুতরাং সেখানে মসজিদ নির্মাণে কোনো ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।’