বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ফুট ওভারব্রিজ তৈরির জন্যে নির্ধারিত স্থান। © টিডিসি ফটো
আশ্বাসেই আটকে আছে গোপালগঞ্জের ব্যস্ততম সড়ক ঘোনাপাড়ায় ফুট ওভারব্রিজ তৈরির কাজ। গতবছর ১৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী চম্পা মন্ডল ঘোনাপাড়ায় ট্রলিচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই মহাসড়ক অবরোধ করে রেখে আন্দোলন করে। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, ওই স্থানে ফুট ওভারব্রিজ তৈরি করে দিতে হবে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের উপস্থিতিতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট ফুট-ওভার-ব্রিজের দাবিতে একটা চিঠিও হস্তান্তর করেছিল। এরপর জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন বন্ধ করে। তবে ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ফুট ওভারব্রিজ তৈরির কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সালমান রহমান বলেন, ‘গতবছর ঘোনাপাড়া মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর আমরা ওই স্থানে ফুট-ওভার-ব্রিজের জন্য আন্দোলন করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো ওভারব্রিজ তৈরির কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যার কারণে একই স্থানে ঘটেছে আরো অনেকগুলো দুর্ঘটনা।’
বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এ ঘোনাপাড়া চৌরাস্তার সংযোগস্থলটি গোপালগঞ্জের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। গোপালগঞ্জের সাথে দেশের সকল অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ঘোনাপাড়াকে কেন্দ্র করে। এর পাশাপাশি এই সংযোগস্থলটির দুই কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে বশেমুরবিপ্রবিসহ সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল, এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানি, জামান সুপার মার্কেট ও গোবরা রেলস্টেশনসহ নব প্রতিষ্ঠিত অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার যানবাহন এবং ত্রিশ হাজার পথচারীর এই সংযোগস্থলটি অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু এই সংযোগস্থলে নেই কোনো ফুট ওভার-ব্রিজ। আর তাই পথচারীদের প্রতিনিয়তই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সংযোগস্থলটি পার হতে হচ্ছ এবং প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।
গোপালগঞ্জ সদর থানার তথ্যানুযায়ী, শুধুমাত্র ২০১৮ সালেই এই সংযোগস্থলে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ছোটোখাটো দুর্ঘটনার সংখ্যা অসংখ্য।
প্রায় পাঁচ বছর ঘোনাপাড়ায় ষ্টেশনারী দোকান পরিচালনাকারী মিকাইল থান্ডাট জানান, ‘সড়ক দুর্ঘটনা এখানের সাধারণ বিষয় হয়ে গিয়েছে, প্রতিদিন এখানে একটা দুটো দুর্ঘটনা ঘটে। নিরাপদে সড়ক পার হওয়ার জন্য এখানে ফুট-ওভার-ব্রিজ অত্যন্ত প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মোখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমরা ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রেরিত স্মারকলিপি সড়ক ও যোগাযোগ অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁরা কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবারও এ বিষয়ে চিঠি পাঠাবো এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করবো।’