ঢাবি শিক্ষকের অভিযোগ
আনন্দপুর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বি.এম কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান মানিক (ইনসেটে) এবং স্কুলের প্রতীকী ভবন © সংগৃহীত
নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বি এম কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য সরকার থেকে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল। সেই টাকা দিয়ে নিজ বাড়িতেই ভবন তোলার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযোগ জমা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক।
অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মার্চে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবন নির্মাণের অনুদান পেতে সহযোগিতা চান। আনন্দপুর গ্রামে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান ক্যাম্পাসেই কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বি এম কলেজের ভবন নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি। ওই ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভবন নির্মাণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ১৮ জুন আনন্দপুর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বি.এম কলেজের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের বরাদ্দ অনুমোদন করে।
অভিযোগকারী জানান, একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় অধ্যক্ষের কথায় আস্থা রেখে তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মো. আলতাফ হোসেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভবন নির্মাণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ১৮ জুন আনন্দপুর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড বি.এম কলেজের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের বরাদ্দ অনুমোদন করে।
বরাদ্দ পাওয়ার কিছুদিন পর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ভবন নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে গেলে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান নির্ধারিত শিক্ষা ক্যাম্পাসে না নিয়ে তাকে নিজের বাড়ির জমিতে নিয়ে যান এবং সেখানে সরকারি ভবন নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণের চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে অবহিত করেন। পরে তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী এবং নেত্রকোণা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানিয়ে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।
আরও খবর: কমিটি হয় না বছরের পর বছর—ঢাকার ত্রিশের বেশি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেলে ছন্নছাড়া ছাত্রদল
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে ভবন নির্মাণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজের বাড়ির জমিতে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা সরকারি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সংঘটিত গুরুতর প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান মানিক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ ধরনের কোনো কাজ আমি করিনি। নিয়ম অনুযায়ী ভবন নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সংস্থাটির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মামুনুর রশিদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।