মাটি ধসে পড়ায় ঝুঁকিমুখে পড়েছে স্কুল ভবনটি © টিডিসি
টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ধসে বান্দরবানের লামা উপজেলার চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারতলা একাডেমিক ভবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভবনের নিচের মাটি ধসে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রেখে অন্য ভবনে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে নির্মিত ভবনটির ভিত্তির নিচে মাত্র দুই হাত পরিমাণ মাটি অবশিষ্ট রয়েছে। ভবনের পাশের বাউন্ডারি ওয়ালসহ বিপুল পরিমাণ মাটি ধসে প্রায় ৩০ ফুট নিচে নেমে গেছে। এতে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ভবনটি ধসে পড়লে সরকারের কোটি টাকার সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ভবনের নিচে বসবাসরত অসংখ্য পরিবারের জীবনও হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিভাবক সৈয়দ তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় সন্তানদের সেখানে পাঠানো নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
কলেজের অধ্যক্ষ আবু হানিফ জানান, গত অর্থবছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্য জেলা পরিষদের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। প্রকৌশলীরা সরেজমিনে পরিদর্শনও করেছিলেন, তবে অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে অন্য ভবনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’
আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মহরম বলেন, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ব্যাহত হলে তাদের লেখাপড়া ও বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছেন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আপাতত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোনো অবস্থাতেই ক্লাস নেওয়া যাবে না।’
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবনটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।