টিউশন ফি বাকি ও চলতি মাসের ফি অগ্রিম না দিতে পারায় করোনাকালীন এই সময়েও রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীকে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়নি। গতকাল রোববার স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কর্তৃপক্ষের এমন আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
হার্ডকো প্যারেন্টস ফোরামের আহ্বায়ক কল্যাণ ওয়াদ্দার বলেন, এই চলমান পরিস্থিতিতে স্কুল বন্ধ থাকায় টিউশন ফি অর্ধেক রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন অভিভাবকরা। দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে অনেক অভিভাবকের আয় কমে গেছে। এছাড়াও স্কুল বন্ধ থাকায় স্কুল পরিচালন ব্যয়ও প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
এদিকে গত সপ্তাহে হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে ফি বাকি পড়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে যেন অনলাইন ক্লাসে যোগদানে বিরত রাখা না হয়। উত্তরার দিল্লি পাবলিক স্কুলের একজন অভিভাবকের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই নির্দেশনা দেন। তবে হার্ডকো স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাইকোর্টের নির্দেশনা কেবল দিল্লি পাবলিক স্কুল মানতে বাধ্য, তারা নয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্ধৃতি দিয়ে অভিভাবকরা জানিয়েছেন, স্কুল প্রশাসন টিউশন ফি বাকি থাকা শিক্ষার্থীদের তালিকা বের করে টা শিক্ষকদের কাছে ধরিয়ে দেয়া হয়। বলা হয়েছে তাদের ক্লাসের সুযোগ না দিতে। তালিকায় থাকা কেউ অনলাইন ক্লাসে ঢুকে গেলে তাকে বের করে দেয়া হয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে।
দেশে চলমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কারণে অনেক অভিভাবক তার সন্তানের টিউশন ফি দিতে পারেননি। এমনকি তাদের সবাইকে ক্লাসের বাইরে রেখেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের সাথে আলোচনায় হার্ডকো কর্তৃপক্ষ বলেছে, প্রায় ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী জুলাই মাসের টিউশন ফি পরিশোধ করেছে। তাদেরই কেবল অনলাইন ক্লাসে যোগ দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। যদিও বিভিন্ন সেকশনের অনলাইন ক্লাসে আজ মাত্র ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছে।