পরীক্ষা দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা © এআই সম্পাদিত
এসএসসি পাসের পর উচ্চমাধ্যমিকে ওঠা শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বড় ধরনের ঝরে পড়ার চিত্র উঠে এসেছে পরিসংখ্যানে। ২০২৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াদের মধ্যে দুই বছর পর ২০২৬ সালের এইচএসসিতে ছিটকে পড়েছে ৪৩ দশমিক ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এই পরিসংখ্যানে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীর ৭ লাখ ২৪ হাজার ২১০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি এবারের এইচএসসিতে।
বোর্ডে সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৩ জন। বাকি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৫৪৩ জনই অনিয়মিত, প্রাইভেট কিংবা এক বা একাধিক বিষয়ের মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী।
ঝরে পড়ার লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছিলেন ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ ছাত্রী এবং ৮ লাখ ৬ হাজার ৫৫৩ ছাত্র। এর বিপরীতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন ৫ লাখ ২ হাজার ৮৬৫ ছাত্রী এবং ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৭ ছাত্র।
দুই বছরে শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে গেছেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৩৫ ছাত্রী এবং ৩ লাখ ৬০ হাজার ১৯৬ ছাত্র। সংখ্যার বিচারে ছাত্রী ঝরে পড়ার সংখ্যা কিছুটা বেশি হলেও শতকরা হারের দিক থেকে ছাত্ররাই বেশি ঝরে পড়েছেন। ছাত্রদের ঝরে পড়ার হার যেখানে ৪৪ দশমিক ৭২ শতাংশ, সেখানে ছাত্রীদের ৪১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
আরও পড়ুন: বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সুখবর
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘২০২৫ সালে আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ার কারণ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করি। সেখানে দেখা যায়, ছাত্রীদের ঝরে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল বাল্যবিবাহ। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন উপকূলীয় জেলায় এ প্রবণতা বেশি। এছাড়া সিলেটের কিছু এলাকায় আর্থিক কারণও শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়তে দেখা গেছে।
চলতি বছরের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটিকে আমরা সরাসরি ঝরে পড়া বলছি না। অনেক শিক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, কিন্তু ভবিষ্যতে তারা আবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন- নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া, বিয়ে হয়ে যাওয়া কিংবা পরিবারের হঠাৎ আর্থিক সংকটের কারণে উপার্জনে যুক্ত হওয়া।’
এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো বিদ্যালয়কে নয়, বরং যেসব অঞ্চলে এ ধরনের প্রবণতা বেশি, সেসব অঞ্চলকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গত বছরের গবেষণা প্রতিবেদন আমরা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। তারা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কাজ করেছে।’