ছুটি © সংগৃহীত
নভেম্বর মাসের শুরুর দিকেই টানা তিন দিনের ছুটি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ছুটি ঘোষণা করে আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিধি-৬ শাখা প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের পর এমন সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষা পরিবারের একাংশ।
তথ্য বলছে, আগামী ৭ নভেম্বর (শনিবার) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং ৮ নভেম্বর (রবিবার) শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটি থাকছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার মিলিয়ে টানা তিন দিন বন্ধ থাকবে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের স্কুল-কলেজ ও কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্ধ থাকবে সারাদেশের ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও। ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা স্কুল-কলেজের ছুটির তালিকা ঘেঁটে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্যমতে, আগামী ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হবে। পরদিন ৮ নভেম্বর রবিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে এ পূজা পালিত হবে।
সরকারি ও এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, শ্যামাপূজা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকে। ফলে সাপ্তাহিক ছুটি ও ধর্মীয় উৎসবের ছুটি মিলিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা টানা তিন দিনের ছুটি পেতে পারেন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে ছুটির বিষয়টি ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাধারণত নিজ নিজ ছুটির তালিকা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি নির্ধারণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ছুটি পাচ্ছেন না মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকা ঘেঁটে শ্যামাপূজা সংক্রান্ত ছুটির কোনো তথ্য মেলেনি।
তথ্যমতে, কালীপূজা বা শ্যামাপূজা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে উদ্ভূত একটি উৎসব, যা হিন্দু দেবী কালীকে উৎসর্গ করা হয়। এটি হিন্দু পঞ্জিকার অশ্বযুজা মাসের বা কার্তিক মাসের দীপান্বিতা অমাবস্যা পালিত হয়। উৎসবটি বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মিথিলা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, আসাম এবং ত্রিপুরার মতো অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়।
এ দিন দীপাবলি উৎসব পালিত হয়। এটি দীপাবলি, দীপান্বিতা, দীপালিকা, সুখরাত্রি, সুখসুপ্তিকা এবং যক্ষরাত্রি নামেও অভিহিত হয়। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে এই দিন লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হলেও বাঙালি, অসমীয়া ও ওড়িয়ারা এই দিন কালীপূজা করে থাকেন। এছাড়া মাঘ মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশী তিথিতে রটন্তী এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিণী কালীপূজাও যথেষ্ট জনপ্রিয়।