একাউন্ট সুরক্ষায় নতুন ফিচার ‘ফেইসবুক প্রোটেক্ট’, যে কারণে চালু করবেন

ফেসবুক
একাউন্ট সুরক্ষায় নতুন ফিচার ‘ফেইসবুক প্রোটেক্ট’  © সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে থেকে অনেককে ফেইসবুক প্রোটেক্ট নামে একটি ফিচার টার্ন অন বা চালু করতে নোটিফিকেশন দেওয়া হচ্ছে। যেখানে বলা হয়েছে, ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ফিচার টার্ন অন করতে হবে, না হলে একাউন্ট লক হয়ে যাবে।

এমন নোটিফিকেশন পেয়ে অনেকেই ঘাবড়ে যাচ্ছেন। আবার এটা কোন ধরণের স্প্যাম কিংবা ভাইরাস কিনা তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন কেউ কেউ। অনেকে ইতোমধ্যে ফিচারটি অন করে দিয়েছেন। আবার অনেকে এ ধরণের কোনো বার্তাই পাননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র ধারণা তৈরি হয়েছে।

অনেকেই এমন নোটিফিকেশন পেয়েছেন।

 

ফেইসবুক প্রোটেক্ট কী?

ফেইসবুকের ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, বেশ কিছু অ্যাকাউন্টকে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে তারা একটি নতুন ফিচার তৈরি করেছে যার নাম দেয়া হয়েছে ফেইসবুক প্রোটেক্ট।

এটি একটি ভলানটারি (ঐচ্ছিক) প্রোগ্রাম যা নির্বাচনী প্রার্থী, তাদের প্রচারণা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অ্যাকাউন্টকে বাড়তি সুরক্ষা দেবে।

প্রাথমিক ভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির নির্বাচনের সময় সেখানকার প্রার্থীদের ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় এই প্রোগ্রামটি তৈরি করা হয়েছিল। পরে এটি কানাডাতেও চালু করা হয়। তবে ২০২১ সালে এটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য সরবরাহ করা হবে বলেও জানানো হয়। এ বিষয়ক আপডেটও ফেইসবুকের মাধ্যমেই জানানো হবে বলে তারা জানায়।

এমন নোটিফিকেশন কেন পাঠাচ্ছে ফেইসবুক?

ফেইসবুকে নতুন এই ফিচারটি অ্যাড করার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে তারা। ফিচারটি চালু করতে গেলে এসব ব্যাখ্যার কথা জানানো হয় ফেইসবুকের পক্ষ থেকে।

সেখানে যে বার্তাটি দেয়া হচ্ছে সেটি হচ্ছে, ‘আপনার অ্যাকাউন্টটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যার জন্য আপনার শক্তিশালী নিরাপত্তা দরকার। আপনার অ্যাকাউন্টের মতো সব অ্যাকাউন্টের রক্ষায় এই নিরাপত্তা প্রোগ্রাম তৈরি করেছে ফেইসবুক।’

ফেইসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, তারা এরই মধ্যে লগ ইনের ক্ষেত্রে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে। পরবর্তীতে প্রোগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর মাধ্যমে ফেইসবুক প্রোটেক্ট পুরোপুরি চালু করা হবে।

ফেইসবুক প্রোটেক্ট কেন আপনার অ্যাকাউন্টের জন্য দরকার

ফেইসবুক প্রোটেক্ট চালু করার সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে লার্ন মোর অপশনে গেলে সেখানে ফেইসবুক প্রোটেক্ট কেন জরুরি সে বিষয়ে বলা হয়।

এতে বলা হয়, হ্যাকাররা সব সময় সেই অ্যাকাউন্টগুলোর প্রতিই আগ্রহী হয়, যেগুলোতে অনেক বেশি ফলোয়ার থাকে, যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ পেইজ পরিচালনা করে কিংবা যার কমিউনিটি সিগনিফিক্যান্স বা গুরুত্ব রয়েছে। এ ধরণের টার্গেটেড অ্যাটাক বা উদ্দেশ্যপূর্ণ হামলা রোধ করতেই উন্নত নিরাপত্তার এই প্রোগ্রামটি চালু করার অনুরোধ করেছে ফেইসবুক।

অ্যাডভানস সিকিউরিটিতে কী কী রয়েছে?

এর আওতায় লগ ইনের ক্ষেত্রে আরো কঠোর নিয়ম আরোপ করা হবে। যাতে অনুমোদনহীন কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পারে।

এছাড়া ফেইসবুক যদি আপনার অ্যাকাউন্টে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন লগ ইন শনাক্ত করে, তাহলে সেটি যে আপনি তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কিছু ধাপ পেরুতে হবে। ফেইসবুক প্রোটেক্ট চালু করা থাকলে প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা পদক্ষেপ আরো ভালো করতে কাজ করবে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ। এর ফলে অ্যাকাউন্টের ব্যাকগ্রাউন্ডে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

এছাড়া ফেইসবুক কোন নতুন সিকিউরিটি প্রোগ্রাম চালু করলে সেটি আপনাকে জানানো হবে যাতে আপনি অন্যদের তুলনায় আগে সেটির সুবিধা পান।

ফেইসবুকের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, এই প্রোগ্রামটি আপনার অ্যাকাউন্টে অন্তর্ভুক্ত করার পর সেটি আরো দৃঢ় নিরাপত্তা সুরক্ষা পাবে যেমন টু-ফ্যাক্টর অথেনটিফিকেশন চালু হয়ে যাবে এবং সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের বিষয়ে নজর রাখা হবে।

কীভাবে এটি করা যাবে?

ফেসবুকের ওয়েবসাইটে জানানো হয় যে, যারা এই ফিচারটি চালু করতে পারবেন তারা ফেসবুকের মাধ্যমেই এটি জানতে পারবেন।

যারা এর আওতায় পড়বেন তারা নিজের ফেইসবুক প্রোফাইলের সেটিংসে গিয়ে সিকিউরিটি অ্যান্ড লগ-ইন অপশনে গেলে ফেইসবুক প্রোটেক্ট নামে অপশন পাওয়া যাবে। সেখান থেকে ফেইসবুক প্রোটেক্ট অপশন অন করা যাবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


মন্তব্য