বর্তমান ইন্টারনেটের কথা বললেই প্রথমে যে নামটা আসে তাহলো ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এখন মানুষের নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে। কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিরা সবাই ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন। সকাল থেকে বিকাল, বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সব সময়ই কেউ না কেউ ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে।
সবচেয়ে বেশি ফেসবুক ব্যবহার করে তরুন প্রজন্ম। ফেসবুক ব্যবহারের কারণে তরুণ প্রজন্ম বখে যাচ্ছে, বই পড়া থেকে দূরে যাচ্ছে বলে গুরুজনরা বলে থাকেন। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ফেসবুক আমাদের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। অনেক নেতিবাচক কাজ সংঘঠিত হচ্ছে। কিন্তু এটাও স্বীকার করতে হবে যে ফেসবুক আমাদের জীবনও বাঁচিয়ে দিচ্ছে। অনেক ইতিবাচক কাজে ফেসবুক ব্যবহার হচ্ছে। দেশে লক্ষ লক্ষ বেকার রয়েছে। তারা ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ, পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চাকরি পরীক্ষার পরামর্শ পান খুব সহজে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন চাকরি প্রার্থীর হয়ত বিসিএস ক্যাডার বা ব্যাংকার অথবা অন্য কোনো চাকরিজীবির সরাসরি পরামর্শ নেয়ার বা কথা বলার সুযোগ হয় না। কিন্তু ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক ব্যাংকার, বিসিএস ক্যাডারসহ অনান্য পেশাজীবিদের পরামর্শ পান। আবার নতুন কোনো চাকরি নিয়োগ পরীক্ষার সার্কুলার দিলেও তা তাৎক্ষণিক জানতে পারেন। শুধু তাই নয় কোনো বিষয় না বুঝলে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিলে তার সমাধান সহজে মেলে।
দেশে বিদেশের খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়। আজকাল ফেসবুকের মাধ্যমে ভিডিও নিউজও দেখা যায়। অনেকে ফেসবুকের পেজ, গ্রুপ থেকে লাইভ ক্লাস ও নিয়ে থাকেন। ফেসবুকের মাধ্যমে অনেকে ঘরে বসে ব্যবসা করছে। এতে করে অফিস রুমের প্রয়োজন হচ্ছে না। তাছাড়া ভোক্তাদের দোড়গড়ায় পৌছানো সম্ভব হচ্ছে। ভালো একটা পেজ, গ্রুপ থাকলে বিজ্ঞাপনের জন্য আলাদাভাবে খরচ করার প্রয়োজন হচেচনা। আগে রক্ত পেতে বেগ পেতে হত।
এখন ফেসবুকের কল্যানে রক্তের প্রয়োজন হলে তা মুহুর্তের মধ্যে ব্যবস্থা হয়ে যায়। যারা লেখালেখি করেন বা অন্য কোনো শিল্পের কাজ করেন তারা ফেসবুকে শেয়ার দেন। এতে করে সেই লেখক বা শিল্পীর পরিচিতি শুধু বাড়েনা,পাঠকরা সরাসরি লেখা বা অন্য কোনো সৃষ্টিশীল বিষয়ের মতামত জানাতে পারেন। ফলে সেই লেখক /শিল্পী তার কাজে অনুপ্রেরণা পায় সাথে সাথে ভুলগুলো সংশোধন হওয়ার পাথেয় পায়। বর্তমান সময় হলো নেটওয়ার্কিং এর। যার মানুষের সাথে নেটওয়ার্ক যত ভালো ।
তার সাফল্য পাওয়ার সম্ভবনা তত বেড়ে যায়। তাছাড়া যেকোনো কাজে মানুষকে সহজে পায়। নেটওয়ার্কিং করার জন্য ফেসবুক অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। অন্যদিকে, পুরাতন বন্ধু, আত্মীয় স্বজনদের সাথে সব সময় যোগাযোগ হয়; তাদের অবস্থা জানা যায়। বিদেশে অবস্থানরত কোনো প্রিয়জনের সাথে সব সময় যোগাযোগ করা যায় প্রায় বিনামূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যে। আর যারা শিক্ষার্থী তারা ক্লাসের নোট,নোটিশসহ বিভিন্ন বিষয় মুহুর্তের মধ্যে জানতে পারেন।
মোট কথা, ফেসবুক একটা ভালো আবিষ্কার। ফেসবুককে নেতিবাচক কাজে না লাগিয়ে এটাকে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করতে পারলে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব । এজন্য ব্যবহারকারীকে সঠিকভাবে ফেসবুক ব্যবহার করা জানতে হবে।