শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে সরকারকে চাপ দিতে ৮ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি

১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৪৫ PM , আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪৫ PM
মার্কিন কংগ্রেস

মার্কিন কংগ্রেস © বিবিসি

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত মজুরি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন মার্কিন কংগ্রেসের এ সদস্যরা। ২৩ হাজার টাকা বা ২০৮ ডলারের ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নিতে সরকার ও তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদকদের চাপ দিতে আমেরিকান অ্যাপারেলস অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনকে (এএএফএ) একটি চিঠি দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের আট সদস্য।

তাদের মতে, শ্রমিকদের মাসিক ২৩ হাজার টাকা মজুরির দাবি না মানা শুধু দুঃখজনক নয়, লজ্জাজনক।
চিঠির শুরুতে বলা হয়, আমরা আমেরিকান অ্যাপারেল অ্যান্ড ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনকে (এএএফএ) বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিকে জোরালোভাবে সমর্থন করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে এ চিঠি লিখছি।  

এতে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের যে মজুরি বাড়ানো হয়েছে, তা দিয়ে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটানো সম্ভব নয়। এতে শ্রমিকদের প্রতিবাদ আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে।  

আন্দোলন দমন করতে পুলিশ সহিংস পথ বেছে নিয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য শ্রমিক আহত হয়েছেন; শ্রমিকনেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে আটক করা হয়েছে; এমনকি অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও কংগ্রেস সদস্যরা মনে করেন, শুধু কথায় কাজ হবে না।  

এএএফএর প্রতি মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের আহ্বান

১.  তারা যেন শ্রমিকদের আন্দোলনে দমন–পীড়ন বন্ধ করতে তাৎক্ষণিকভাবে আহ্বান জানায়।

২.  তারা যেন শ্রমিকদের ২৩ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নিতে এবং মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া উন্নত করতে সরকার ও মালিকপক্ষকে চাপ দেয়।

৩.  তারা যেন বাংলাদেশের পোশাক সরবরাহকারীদের সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক রাখার অঙ্গীকার করে। ২৩ হাজার টাকা মজুরি দিতে যে ব্যয় বাড়বে, তার পুরোটা যেন পোশাকের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

৪. তারা যেন সংগঠন করার অধিকারসহ শ্রম ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সদস্য কোম্পানিগুলোর সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখে।

৫. তারা যেন শ্রমিক ও ইউনিয়ন নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা তুলে নিতে নির্দেশনা দেয়।

৬. তারা যেন সরবরাহকারীদের এ বিষয়ে সতর্ক করে দেয় যে শ্রমিক ও ইউনিয়ন নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও তাদের হয়রানি করা গ্রহণযোগ্য নয় এবং সে ক্ষেত্রে পোশাক কেনার সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হতে পারে।

৭.  কারখানার মালিকদের ব্যক্তিগতভাবে ও শিল্পসংগঠনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে এটা নিশ্চিত করে যে সম্প্রতি বন্ধ হওয়া কারখানার শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা হবে।

এ ছাড়া কংগ্রেস সদস্যদের চিঠিতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ইপিজেড) শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া যেন বাইরের কারখানাগুলোর মতো ‘অন্যায্য’ না হয়, তা নিশ্চিত করতে এএএফএকে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

১৫ ডিসেম্বর এএএফএর সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী স্টিভেন ল্যামারের কাছে এ চিঠি দেওয়া হয়। এতে সই করেছেন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমন, জেমস পি ম্যাকগভার্ন, জ্যান শাকোস্কি, রাউল এম গ্রিহালভা, বারবারা লি, ডেভিড জে ট্রোন, আলেক্সান্ড্রিয়া ওকাসিও-করটেজ ও সুজান ওয়াইল্ড।

ট্যাগ: আমেরিকা
নৌবাহিনীর অভিযানে ৬ কোটি টাকার ক্রিস্টাল মেথ ও অস্ত্রসহ আটক…
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল আইসিসি
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
শাহবাগ থানায় জিডি হাদির মেজ ভাই শরীফ ওমরের
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাক-ঢোল পিটিয়ে এনসিপির নির্বাচনি থিম সং প্রকাশ
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার দিনই বিসিবির এক পরিচালকের পদত্যাগ
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
এক্সিকিউটিভ/সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে নগদ, আবেদন শেষ ১…
  • ২৪ জানুয়ারি ২০২৬