জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধের মধ্যেও জিডিপিতে বড় চমক দেখাল চীন

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৩ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসন প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে চীন। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই অর্থনীতির মোট দেশজ উৎপাদন ( জিডিপি) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। খবর বিবিসির

বিশ্লেষকদের ৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে বেইজিং এই সাফল্য অর্জন করল। গত মাসে চীনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৪.৫ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ১৯৯১ সালের পর সর্বনিম্ন। মূলত উৎপাদন খাতের ওপর ভর করেই আগের প্রান্তিকের ৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশটি। 

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কাইল চ্যানের মতে, গাড়ি এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানি এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল। তবে আবাসন খাতে বিনিয়োগের মন্দা এখনো চীনের অর্থনীতির অন্যতম বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে এশীয় দেশগুলোর ওপর। চ্যান সতর্ক করেছেন, যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ প্রভাব এখনো দৃশ্যমান হয়নি এবং বাণিজ্যিক অচলাবস্থার কারণে আগামী প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার কমে যেতে পারে। 

এদিকে, অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দুর্বল ভোগব্যয়, জনসংখ্যা হ্রাস এবং দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট মোকাবিলা করছে বেইজিং। দেশের অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে সরকার উদ্ভাবন, উচ্চ-প্রযুক্তি শিল্প এবং অভ্যন্তরীণ ব্যয় বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং জ্বালানি সংকটের মতো আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলোও চীনের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বর্তমানে বেশিরভাগ চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক বহাল থাকলেও আগামী জুলাইয়ের মধ্যে তা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে মে মাসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। যেখানে সবকছিুই আশা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে চীনের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে রপ্তানি ২০ শতাংশ বেড়েছিল, মার্চে তা কমে মাত্র ২.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। 

অন্যদিকে, মার্চ মাসে চীনের আমদানি প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৫০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ ইকশিও ঝু-র মতে, ইরান যুদ্ধের ফলে তেলের দাম এবং কাঁচামালের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানির ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। যদিও জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় চীন উপসাগরীয় তেলের ওপর কম নির্ভরশীল, তবুও দেশটিতে পেট্রোল ও উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিমান চলাচলে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

নিজ ক্যাম্পাসে মরণোত্তর সম্মাননায় হুমায়ূন ফরীদি
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬
যে ৯ কেন্দ্রে হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জাবিতে প্রতিদিন এক ঘণ্টা লোডশেডিং
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬
মৎস্য প্রজেক্ট সংস্কারের অনুমতি নিয়ে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ, ড…
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বান্দরবানে ঘুরতে গিয়ে চিরতরে হারিয়ে গেলেন সলিমুল্লাহ মেডিকে…
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬
নকল প্রসাধনী ও তেল মজুত : দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমা…
  • ১৬ এপ্রিল ২০২৬