জাল সনদ, টাকা আত্মসাৎ—প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে নামছে মাউশি

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ PM , আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ AM
মাউশি

মাউশি © টিডিসি সম্পাদিত ছবি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলাধীন বৈদ্যেরবাজার এন এ এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জাল সনদে নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ জমা হয়েছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১১ জানুয়ারি মাউশিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয় দুদক। দুদকের চিঠির প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে মাউশি।

জানতে চাইলে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।’

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তাকে শুনানীর জন্য ডাকা হয়। প্রধান শিক্ষক কোন প্রমাণ ও কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিষ্পত্তিকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত অভিযোগ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে সুষ্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য সোনারগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। তবে এখনো প্রতিবেদন না পাওয়ায় মাউশির ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালককে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দুদকে জমা হওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈদ্যের বাজার পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ভুয়া (জাল) সনদ দিয়ে স্কুলে নিয়োগ পান। নিয়োগ পাওয়ার দুই বছরেরও বেশি সময় পর মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে এমপিওভুক্ত হয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: শিক্ষকদের বদলি নিয়ে যে তথ্য দিলেন মাউশি ডিজি

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে বিএড সনদ অর্জন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সনদটি টাকা দিয়ে কিনেছেন তিনি। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের সনদ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এই সনদ দিয়ে নেওয়া তার চাকরিও অবৈধ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক কামালা হোসেন এন এ এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে  যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন লাইব্রেরির সঙ্গে বই বাণিজ্য শুরু করেন। স্কুলে তিনি নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট করে দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করা, কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, স্কুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন তিনি।

শুধু তাই নয়; প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন বিদ্যালয় তহবিলের ৩১ লাখ টাকা নয়ছয় করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি টাকার হিসাব দিতে পারছেন না। প্রমাণ সরিয়ে দেওয়ার জন্য তার ইন্ধনে দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের পেছনের জানালা ভেঙে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে বিদ্যালয় তহবিলের আনুমানিক ৩১ লাখ টাকার হিসাবে গরমিল রয়েছে। দীর্ঘদিনেও এর হিসাব দিতে পারছেন না প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন। এ জন্য তিনিই লোক দিয়ে আগুন লাগিয়েছেন। 

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘কামাল হোসেন বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে পারেন না। তিনি অনেক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার সনদ দারুল ইহসানের। যা গ্রহণযোগ্য নয়। এই সনদ দিয়ে তিনি কীভাবে এমপিওভুক্ত হয়েছেন সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এন এ এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কিউএস এশিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
৮ ঘণ্টার বৈঠকে ২৩ নেতার মতামত, তবুও এমপি আজিজের বিষয়ে যে সি…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ট্যাব পাচ্ছেন প্রাথমিকের ৩ লাখ ৮৩ হাজার শিক্ষক
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
এনএসইউতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ফল ২০২৬ গ্র্যাজুয়েট কলক্যুয়াম সিরিজ’
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করবে জামায়াত
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
দুই দশকেও প্রকাশ হয়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাগাজিন 
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950