শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন © ফাইল ছবি
প্রায় দুই বছর আগে শেষ হয়েছে মৌখিক পরীক্ষা। তবে এখনও প্রকাশ হয়নি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীন প্রদর্শসকসহ চার ক্যাটাগরির ফলাফল। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনুমোদন না দেওয়ায় ফল প্রকাশের কার্যক্রম ঝুলে রয়েছে বলে জানা গেছে।
মাউশির একটি সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ এক সভায় প্রদর্শকসহ চার ক্যাটাগরির ফল প্রকাশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন দিলে ফল প্রকাশের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, ফল প্রকাশের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি নির্দেশনা না দিলে ফল প্রকাশের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’
এদিকে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার প্রায় দুই বছর হতে চললেও এখনো ফলাফল প্রকাশ না করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা প্রায় সাড়ে ৬ হাজার প্রার্থী। দ্রুত ফল প্রকাশের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে লিটন নামে এক ফলাফল প্রত্যাশী বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শক পদের ফলাফল প্রকাশের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। একাধিকবার মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমাদের দুর্ভোগের কথা শুনে মাউশির প্রশাসন শাখার সাবেক উপ-পরিচালক শাহজাহান ফল প্রকাশের বিষয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে একটি মহলের বিরোধীতার কারণে আজও আমাদের ফল প্রকাশ হয়নি। সাড়ে ৬ হাজার মানুষের অপেক্ষার প্রহর কবে শেষ হবে সেটি বোঝা দায়। আমাদের বয়স শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের সামনেও মুখ দেখাতে পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, আমাদের ফল প্রকাশের ব্যবস্থা নিন।’
খাদিজা আক্তার নামে আরেক ফল প্রত্যাশী বলেন, শিক্ষা সচিব, মাউশি ডিজি, শিক্ষামন্ত্রীর নাম্বারে ফোন দিলে তারা বলেন, ফল প্রকাশের কার্যক্রম চলমান। চার মাস ধরে একই কথা বলছে। ফল প্রকাশ করতে ৩ ঘন্টা সময় লাগবে। কেননা ফলাফল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সংরক্ষিত। আপনারা একটা রেজাল্ট প্রকাশ করতে পারেন না। তাহলে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কীভাবে করবেন। নাকি মুখে মুখে আপনারা কাজ করেন। কলেজগুলোতে দুই হাজার প্রদর্শক পদ ফাঁকা। ব্যাবহারিক ক্লাসের গুরুত্ব নেই। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত ফল প্রকাশ করা প্রয়োজন।’
জাকারিয়া নামে আরেক ফল প্রত্যাশী বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা কয়েকজন ২০ পাতার ডকুমেন্টসহ একটি স্মারকলিপি হাতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জমা দেই। তবে আজও তিনি আমাদের ফল প্রকাশের উদ্যোগ নেননি। মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন দিলে ফল প্রকাশিত হবে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি অনুমোদন দিচ্ছেন না সেটি আমাদের জানা নেই। ফল প্রকাশের দাবিতে আমরা আমরণ অনশন, আন্দোলন, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছি। তবে অজানা কারণে আমাদের ফলাফল আটকে রয়েছে।’