© ফাইল ফটো
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুম একটি আলোচিত বিষয়। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে বৈধ সিট দেয়া হয় না। আর সেই সুযোগ কাজে লাগায় ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন। নবীন শিক্ষার্থীদের গণরুমে সিট দেওয়ার বিনিমনে তারা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করে। অনেক সময় তুচ্ছ কারণে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতারা শিক্ষার্থীদের নির্যাতন-নীপিড়ন করে আসছে, যা প্রায় খবরের শিরোনাম হয়ে থাকে।
এ পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে গণরুম কালচার তুলে দিতে প্রশাসন নানান পদক্ষেপ নিলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। সর্বশেষ, গতকাল মঙ্গলবার প্রভোস্ট কমিটির এক সভায় আবাসিক হলগুলো অছাত্র মুক্ত করে দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা কথিত গণরুমের অবসান ঘটানো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়, আবাসিক হলে অবৈধ/অছাত্র শিক্ষার্থীদের বের করা দেওয়া গেলে দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা কথিত ‘গণরুমের’ অবসান ঘটবে। তবে এই ‘গণরুমের’ অবসান ও ‘যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের হলে অবস্থান না করার’ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা অত্যাবশ্যক বলেও সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয় ।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রভোস্ট কমিটির এক সভা অনলাইন ভার্চুয়াল মিটিং প্লাটফর্ম জুমের মাধ্যমে উপাচার্য ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরসনে এবং আবাসিক হলের শিক্ষা ও জীবনমানসহ সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে হল প্রশাসন বেশকিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন সংযুক্ত ছিলেন। সভায় করোনাভাইরাস উত্তর সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও হলের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর শুধুমাত্র বৈধ শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট হলের নীতিমালার আলোকে হলে অবস্থান করবে। যাদের ছাত্রত্ব নেই তারা কোনক্রমেই হলে অবস্থান করতে পারবে না। তাদেরকে হল প্রশাসন কর্তৃক দেয়া সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট কক্ষ/সিট ছেড়ে দিতে হবে। তীব্র আবাসন সংকট নিরসনে এর বিকল্প নেই বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।