বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ © সংগৃহীত
মিরাজও টিকলেন না। অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলটি খেলার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। তবুও ব্যাট চালিয়ে বিপদ ডেকে আনেন এই অলরাউন্ডার।
প্যাট কামিন্সের শর্ট বলটি অনায়াসেই ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু রানের আশায় শট খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে বসেন। উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে জমা পড়ে ক্যাচটি।
১১ বলে মাত্র ১ রান করে ফেরেন মিরাজ। তার বিদায়ে আরও বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ।
২৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৬৯ রান। ক্রিজে মুশফিকের সঙ্গে আছেন হাসান মাহমুদ।
অস্ট্রেলিয়াকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠাতে বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও ৭৭ রান।
এর আগে, দ্বিতীয় দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়ার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। প্রথম আধঘণ্টায় উইকেট না পেলেও পরে শরীফুল ইসলাম দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন। ধারাভাষ্যকক্ষে সেই বলের বর্ণনা এসেছে, ‘নব্বইয়ের দশকে ওয়াসিম আকরামের মতো ডেলিভারি।’
শরীফুলের দুর্দান্ত ইয়র্কারটি একটু দেরিতে সুইং করে গ্রিনের পায়ে আঘাত করে। আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। পরে রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ৬৭ রান করে এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন গ্রিন। এটি ছিল শরীফুলের সপ্তম উইকেট এবং তাতেই বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে ৭ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন শরীফুল। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এতদিন পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগারের মালিক ছিলেন শাহাদাত হোসেন। ১৮ বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙেন শরীফুল।
অ্যাওয়ে টেস্টেও বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং ফিগার এখন শরীফুলের। এর আগে দুই মাস আগে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম।
শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন জশ হ্যাজলউড। তবে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন নাথান লায়ন। অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২১০ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের লিড পায় তারা।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে দিতে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা বেশ ভালোভাবেই করেছেন। ১৫ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন শরীফুল। তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন একটি করে উইকেট।