বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ © সংগৃহীত
দুঃস্বপ্নের এক সেশন কাটানোর পর সর্বনিম্ন রানে অলআউটের লজ্জা এড়ানোই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শেষ উইকেট জুটিতে সেই চ্যালেঞ্জে উতরে যায় সফরকারীরা। তবে শুরুর দিকের ব্যাটিং বিপর্যয়ে স্কোরবোর্ডে বলার মতো পুঁজি গড়তে পারেনি বাংলাদেশ।
ব্যাটিং ধসে শেষ ভরসা হয়ে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে মধ্যাহ্নবিরতির পর এই অলরাউন্ডারও ফিরলে শেষ আশাটুকুও নিভে যায়। এতে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করতে বেশি সময় নেননি স্টার্ক। ইনিংসের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। কোনো রান না করেই ফেরেন সাদমান। টেস্টে প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার ঘটনা স্টার্কের ক্যারিয়ারে এটি চতুর্থবার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন কীর্তির দিক থেকে এটি তার জন্য নতুন একটি রেকর্ড।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন স্টার্ক। পরপর দুই বলে তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান তিনি। দুজনই কোনো রান করতে পারেননি। শান্ত আউট হওয়ার পর হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। শান্তর বিদায়ের মধ্য দিয়ে টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটারের তিনজন রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন।
অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম হ্যাটট্রিক বল সামলে বিপর্যয় কিছুটা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। তবে অন্য প্রান্তে বাংলাদেশের উইকেট পতন থামেনি। নিজের তৃতীয় ওভারে মুমিনুল হককে গালিতে ক্যাচে পরিণত করেন স্টার্ক। ৯ রান করে ফেরেন মুমিনুল। এরপর লিটন দাসও রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন। জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি।
একপর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১২ রানে ৫ উইকেট। তখন টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেদের সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। মাত্র ২৬ রানে টেস্টে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড, আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ২৭। সেই দুই লজ্জার রেকর্ড এড়ানো গেলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল।
এমন বিপর্যয়ের মধ্যেই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। তার ব্যাটে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সেই আশাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্যাট কামিন্সের ভেতরের দিকে ঢুকে আসা বলে পরাস্ত হয়ে বোল্ড হন মুশফিক। তার বিদায়ের পর আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে তাই স্বস্তির চেয়ে অস্বস্তিই বেশি। তবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও শেষ দিকে কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। কিন্তু শেষ আশার আলো মিরাজও আউট হয়ে যান। লাঞ্চ-বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই আউট হন এই অলরাউন্ডার। কামিন্সের অফ স্টাম্পের বাইরে লাফানো বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি।
পরের ওভারে আরেক ব্যাটার হাসানও প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছেন। হ্যাজেলউডের ব্যাক অব লেন্থ ডেলিভারিতে স্লিপে লায়নের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে মিরাজের পর দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে দুই অঙ্কের কোটা (৩৬ বলে ১০ রান) ছুঁয়েছিলেন তিনি।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ডও গড়ার শঙ্কায় পড়েছিল লাল-সবুজেরা। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ উইকেটে এসে সেই লজ্জার রেকর্ড থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। প্যাট কামিন্সের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলীয় সংগ্রহ ৪৩ রানে নেন শরীফুল ইসলাম। এরপর জশ হ্যাজলউডকে চার মেরে রান আরও বাড়িয়ে ৪৭-এ নিয়ে যান তাইজুল ইসলাম।
এতে ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ডটি এখনো অক্ষত থাকল। সেটিই টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। ফলে ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার সেই পুরোনো রেকর্ডটি এবারও বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।
১১ নম্বরে নেমে ইনিংসের সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। তাইজুলের সঙ্গে ৩৫ বলে ২৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত শরিফুলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে অলআউট করেন মিচেল স্টার্ক। ১১ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল।
সবমিলিয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন স্টার্ক। ১০ ওভারে মাত্র ১২ রান খরচ করে ৬ উইকেট শিকার করেন এই পেসার।