বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ © সংগৃহীত
০, ০, ০—অস্ট্রেলিয়া সিরিজে লিটন দাসের ব্যাটিংয়ের গল্পটা যেন শুধুই শূন্যের। ডারউইনে সিরিজের একমাত্র ইনিংসে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরেছিলেন। ম্যাকাইয়ে দুই ইনিংসেও একই চিত্র। এবার দ্বিতীয় ইনিংসেও ১০ বল খেলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার।
স্টার্কের অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে করা বল খোঁচা দিয়ে স্লিপে দাঁড়ানো ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। তাতেই তিন ইনিংসে তিন ‘ডাক’ মেরে শূন্যের হ্যাটট্রিক হলো তার।
এদিকে লিটনের বিদায়ে আরও চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ইনিংস হার এড়াতে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে এখনো ৮৩ রান প্রয়োজন। শেষ ভরসা হয়ে ক্রিজে আছেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ২৫ ওভারে বাংলাদেশের রান ৬৫।
এর আগে, দ্বিতীয় দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়ার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। প্রথম আধঘণ্টায় উইকেট না পেলেও পরে শরীফুল ইসলাম দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে দেন। ধারাভাষ্যকক্ষে সেই বলের বর্ণনা এসেছে, ‘নব্বইয়ের দশকে ওয়াসিম আকরামের মতো ডেলিভারি।’
শরীফুলের দুর্দান্ত ইয়র্কারটি একটু দেরিতে সুইং করে গ্রিনের পায়ে আঘাত করে। আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। পরে রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ৬৭ রান করে এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন গ্রিন। এটি ছিল শরীফুলের সপ্তম উইকেট এবং তাতেই বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে ৭ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন শরীফুল। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এতদিন পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগারের মালিক ছিলেন শাহাদাত হোসেন। ১৮ বছর পর সেই রেকর্ড ভাঙেন শরীফুল।
অ্যাওয়ে টেস্টেও বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং ফিগার এখন শরীফুলের। এর আগে দুই মাস আগে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম।
শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন জশ হ্যাজলউড। তবে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন নাথান লায়ন। অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২১০ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের লিড পায় তারা।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে দিতে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা বেশ ভালোভাবেই করেছেন। ১৫ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট নিয়েছেন শরীফুল। তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন একটি করে উইকেট।