রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ ছাত্রদলের, তদন্তের দাবি

২২ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪২ PM
রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ ছাত্রদলের, তদন্তের দাবি

রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ ছাত্রদলের, তদন্তের দাবি © সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ফান্ডের সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, খাতবিহীন অর্থ উত্তোলন, আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত, জবাবদিহিতা, দায়ীদের বিচার এবং অর্থ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের রাকসু ফান্ডে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে রাবি শাখা ছাত্রদল।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর শাখা ছাত্রদলের সভাপতির স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম, অসঙ্গতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জনসম্মুখে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৪২টি কর্মসূচিতে রাকসুর তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তোলন করা টাকার ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ইচ্ছামতো অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।

আরও বলা হয়, রাকসু কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান এবং রাকসু ফান্ডের অর্থ মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য। ফলে শিক্ষার্থীদের অর্থের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব, বৈধ খাত ও ব্যয়ের প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক। খাত না দেখিয়ে টাকা উত্তোলন, ব্যয়ের যথাযথ প্রমাণ না দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় না করে অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অর্থের জবাদিহি চেয়ে বলা হয়, সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে, কোন খাতে এবং কার অনুমোদনে ব্যয় করা হয়েছে, এর পূর্ণাঙ্গ জবাব সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই দিতে হবে। আমরা কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে পূর্বানুমানভিত্তিক দোষী সাব্যস্ত করতে চাই না। তবে অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা অপরিহার্য। দোষী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাত দফা দবি জানিয়ে বলা হয়, রাকসু ফান্ড থেকে উত্তোলিত প্রায় সোয়া কোটি টাকার প্রতিটি টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করতে হবে। কোন খাতে, কত টাকা, কখন এবং কার অনুমোদনে উত্তোলন ও ব্যয় করা হয়েছে তা জানাতে হবে। খাত না দেখিয়ে, যথাযথ বিল-ভাউচার ছাড়া কিংবা নির্ধারিত আর্থিক বিধি অনুসরণ না করে উত্তোলিত অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের লিখিত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

রাকসু ফান্ডের আয়-ব্যয়, ব্যাংক হিসাব, চেক উত্তোলনসংক্রান্ত নথি, বিল-ভাউচার ও সংশ্লিষ্ট সকল আর্থিক কাগজপত্রের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত (অডিট) করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত (অডিট) কমিটি গঠন করতে হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ, অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম বা আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে অর্থের বৈধ ব্যয়ের প্রমাণ পাওয়া যাবে না অথবা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয়/আত্মসাৎ প্রমাণিত হবে, সেই সমুদয় অর্থ উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের রাকসু ফান্ডে পুনরায় জমা দিতে হবে।

ভবিষ্যতে রাকসু ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক বিল-ভাউচার এবং শিক্ষার্থীদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের অর্থ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য থাকা রাকসু ফান্ডের অর্থ যদি যথাযথ খাত ছাড়া ইচ্ছামতো উত্তোলন করা হয়ে থাকে এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় না হয়ে থাকে, তাহলে এর পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সোয়া কোটি টাকা কোথা থেকে এলো, কোথায় গেল, কারা উত্তোলন করল, কোন খাতে ব্যয় হলো এবং কত টাকা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হয়েছে, প্রতিটি প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর দিতে হবে।

দাবি জানিয়ে বলা হয়, কোনো পক্ষের প্রতি রাজনৈতিক বিদ্বেষ থেকে নয়; বরং শিক্ষার্থীদের কষ্টার্জিত অর্থের সুরক্ষা, রাকসুর আর্থিক স্বচ্ছতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাবদিহিতার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য এই দাবি জানাচ্ছি। উপরোক্ত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করে রাকসু ফান্ডের সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন ও ব্যয়ের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি, অনিয়ম প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং আত্মসাৎ অপব্যবহৃত অর্থউদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের রাকসু ফান্ডে ফেরত জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

এবিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কষ্টার্জিত সোয়া কোটি টাকা রাকসুর ভিপি এবং জিএসসহ তাদের সম্পাদকরা ব্যক্তিগত কাজে উত্তোলন করে বিনা ভাউচারে কর্মসূচি সম্পাদন করেছে। টাকা উত্তোলনের প্রসেস হচ্ছে কোনো টাকা উত্তোলন করে তার বিল লিখিতভাবে পরিশোধ করে তারপর আবার টাকা উত্তলোন করব। অথচ রাকসু সেই প্রসেস মেইনটেইন করেনি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে টাকাটি ব্যয় করেনি। এর প্রতিবাদেই আমরা আজকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি।

স্মারকলিপির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ছাত্রদল রাকসুর অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এখানে রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি না মেনে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অনেকগুলো অভিযোগ করা হয়েছে। উপাচার্য রাজশাহীতে ফিরলেই এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। জনগণের ট্যাক্সের এবং শিক্ষার্থীদের প্রদানকৃত অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাবিপ্রবিতে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নেতৃত্বে আরাফ…
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
পিএসসি দলীয়করণ করা হলে ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না- শিবির সভাপতি…
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
ভেঙে গেল উসাইন বোল্টের রেকর্ড
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহের এক উপজেলা কমিটি থেকে এনসিপির ১৪ নেতার পদত্যাগ
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
‎অটোমেশনের মাধ্যমে জার্নাল সাবমিশন-রিভিউসহ ডিওআই প্রয়োগ চাল…
  • ২২ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীতে আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার খবর দিলেন প্রাথ…
  • ২২ আগস্ট ২০২৬