করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ ধারণ করেছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন দেশে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করছে। একইভাবে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর আনাগোনা থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও বন্ধ ঘোষণা করার জোর দাবি উঠেছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।
একই সুরে বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার ব্যাপারে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৪ মার্চ) তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সকলেই যেন সুস্থ থাকি দেশবাসীর কাছে সেই দোয়া চাই। সুস্থ থাকার জন্য যে সব সতর্কতা, সেগুলো আমরা বাড়িয়েছি। উপাচার্য, হল কর্তৃপক্ষসহ আমরা সংশ্লিষ্ট যারা আছি, তারা সার্বিকভাবে ছাত্রদের পাশে আছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাস বন্ধে অনুরোধ জানানোর কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা যেখানে গণরুম রয়েছে। বিজয় একাত্তর হলের মতো একটি হলে দুইশর বেশি শিক্ষার্থী একসাথে থাকে। একজনের জিনিস অন্যজন ব্যবহার করে। এখানে কারও শরীরে ভাইরাস ছড়াই তাহলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি যেন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়।
শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সর্বোচ্চটুকু করবেন বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, এই করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে, আলাপ আলোচনা করে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য যা করা দরকার আমরা সর্বোচ্চ করার জন্য চেষ্টা করে যাবো।
করোনা আতঙ্কের মধ্যে ক্যাম্পাস বন্ধের দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব শিক্ষার্থীরা। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফজাল হোসেন তানভীর বলেন, এই সংক্রামক ভাইরাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়লে তেমন আশ্চর্য হওয়ার কিছু নয়। ঢাবির হলগুলোর গণরুম সম্পর্কে সবাই অবগত। এখানে আবাসিক হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বাহিরের শিক্ষার্থীদের সাথে মিশছে। এছাড়া প্রতিদিন লোকেরও জনসমাগম হচ্ছে। ফলে ভাইরাসের ঝুকি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মীর্জা সিরাজুম মনির বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন হলগুলোর গণরুম এই ভাইরাস ঝুকির শীর্ষে রয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয়, যা খুবই লজ্জাজনক। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীরব ভূমিকা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কার্যকরভূমিকা নিতে উৎসাহিত করতে পারছে না। তাই যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হোক।
চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ সুমন বলেন, বাংলাদেশে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই ভাইরাস সনাক্ত হয়। যার ফলে দেশে এক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ১০০০ এর অধিক। ঢাবিতে ছড়িয়ে পড়া অসম্ভব কিছু না। তাই আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ কারো এ রোগ হলে সেটা মুহূর্তে সারা বিশ্ববিদ্যালয় ছড়িয়ে পড়বে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েল চিকিৎসাকেন্দ্রে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা নেই বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্রধান অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী এখনো করোনায় আক্রান্ত হননি। যদি আক্রান্ত হয় তাহলে সরকার যে তিনটি হাসপাতালে কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা করেছে ওই তিনটি হাসপাতালে পাঠাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো করোনার ঝুঁকি মোকাবিলা করার মত কোন কিছু করতে পারে না। এর পিছনে আমাদের দেশের সীমাবদ্ধতায় দায়ী।
তিনি আরো বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ করবো তারা যেন তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার -পরিচ্ছন্ন রাখে এবং নিজেরাই যথাসম্ভব সচেতন হলে এড়ানো সম্ভব।
করোনায় আতঙ্কগ্রস্থ না হতে আহবান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদেরকে সচেতন হতে হবে,পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে আতঙ্কগ্রস্থ হওয়া যাবে না। বিভিন্ন শিষ্টাচার অনুসরণ করতে হবে। অমানবিক হওয়া যাবে না আমরা যদি সকল ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল, সচেতন ও সতর্ক থাকি তাহলে সমাজের অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ ব্যাপারে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক আলোচনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি।